দেবহাটা প্রতিনিধি। প্রবাদে আছে চোরের দশ দিন, আর গৃহস্থের একদিন তাই হয়েছে ইউপি সদস্য মুসা সরদারের ভাগ্যে। সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী এক সন্তানের জননীর বাড়িতে রাত কাটানোর সময় অসামাজিক কার্যকত অবস্থায় উত্তম মধ্যম খেয়ে জনতার হাতে আটক অতঃপর প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) রাত আনুমানিক দেড়টার সময় সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বাজার গ্রামের মাছের সেট সংলগ্ন নজরুল ড্রাইভারের বাড়িতে । ইউপি সদস্য মুসা সরদার এলাহি বক্স সরদারের ছেলে অপর দিকে একই গ্রামের পাশাপাশি বাড়ি মোহাম্মদ ড্রাইভারের ছেলে সৌদি প্রবাসী আব্দুল কাদেরের স্ত্রী।
বাজারের পাশে সৌদি প্রবাসী আব্দুল কাদেরের পিতা মোহাম্মদ আলী, ড্রাইভার আবু জাফর, ফারুক হোসেন, আলামিন, আমিনুল মাস্টার, আশরাফুল ইসলাম, আব্বাজউদ্দিন একাধিক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান চিরকুমার ইউপি সদস্য মুসা সরদার বিয়ে না করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নিশি (ছদ্মনাম) নামে এক ঋষি কন্যাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষিতা হিসেবে বছরের পর বছর ভোগ করে আসছে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ওই রক্ষিতার কাছ থেকে ডিভোর্স পেপারে সই করিয়ে নেয়। তারপরও ঐ ঋষি কন্যাকে ভোগ করে আসছে।এরপরে গত কয়েক মাস আগে বাজার গ্রামের নজরুলের ড্রাইভারের কন্যা এবং সৌদি প্রবাসী আব্দুল কাদেরের স্ত্রীর দিকে নজর পড়ে তার। নজরুল ড্রাইভারের কন্যার প্রথমে বিয়ে হয় তারালি গ্রামে। সেখানে প্রথম স্বামীর ঘরে একাদশ শ্রেণীতে পড়ুয়া একটি কন্যা সন্তান আছে। পরকীয়ার কারণে সেখান থেকে তালাকপ্রাপ্ত হয়ে বাবার ( নজরুল)বাড়িতে থাকাকালীন পাশাপাশি বাড়ি মোহাম্মদ ড্রাইভারের ছেলে আব্দুল কাদেরের সঙ্গে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে তুলে ৬/৭ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। এঘরে তাদের ৫ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে । গত ২ মাস আগে আব্দুল কাদের সৌদি আরব চলে যায়। সেই থেকে নিয়মিত ভাবে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তুলে ইউপি সদস্য মুসা সরদার ওই প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে নিয়মিত যাতায়াত ও রাত্রি যাপন করে আসছিল।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে এলাকাবাসী রাত জেগে ডিউটি করে গত মঙ্গলবার রাতে তারাবি পড়ার সুযোগে ইউপি সদস্য মুসা সরদার প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ঢুকে অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু করে। ওই সময় প্রবাসী আবদুল কাদেরের ভাই ডাইভার আবু জাফর রাত্রে বাড়ি ফেরার পথে রাত আনুমানিক দেড়টার সময়তার ভাবীর ঘরে শব্দ পেয়ে এলাকাবাসীদের ডেকে ঘেরাও করে ইউপি সদস্য মূসা সরদারকে হাতে নাতে ধরে উত্তম মধ্যম শুরু করে। ওই সময় ইউপি সদস্য মুসা কৌশলে বিয়ের কথা বলে চলে যায়। পরে প্রবাসীর স্ত্রীর পিতা নজরুল ড্রাইভার তার কন্যাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে সে ওই ইউপি সদস্যের সাথে উধাও হয়ে চলে যায়।সেই থেকে ইউপি সদস্যের আর কোন খোজ মেলেনি । ইউপি সদস্যের এমন কর্মকান্ডের বিষয়টি কালীগঞ্জ উপজেলায় টক অফ দ্যা টাউনে পরিণত হয়। ঘটনার সত্যতা জানতে ইউপি সদস্যের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান বিষয়টি আমি শুনেছি তবে ইউপি সদস্যের মোবাইল বন্ধ থাকায় কোন কথা বলতে পারেনি। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।