মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী প্রতিনিধি
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সর্বশেষ
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত একটি গভীর নলকূপের প্রায় ৩০ ফুট নিচে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে উদ্ধারে দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা পরও সফল হতে পারেনি উদ্ধারকারী দল। রাত ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মাটির নিচে প্রায় ১৮ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত খনন কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন।
তানোর ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। “শিশুটিকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে একটি এক্সক্যাভেটর গর্তের পাশেই সমান্তরাল আরেকটি পথ খুঁড়ছে এবং দুটি ট্র্যাক্টর মাটি সরাচ্ছে। শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে গর্তের ভেতরে নিয়মিত অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে,” বলেন তিনি।
পুলিশ জানায়, দুপুরের দিকে মাটি বোঝাই একটি ট্রলি হঠাৎ দেবে যায়। এ দৃশ্য দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা রুনা খাতুন তার দুই বছরের ছেলে সাজিদকে নিয়ে মাঠে যান। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ ‘মা’ বলে চিৎকার করে ওঠে। পেছনে ফিরে রুনা খাতুন বুঝতে পারেন, ছেলে গর্তে পড়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর গর্তের গভীর থেকে শিশুটির ক্ষীণ কণ্ঠে ‘মা, মা’ ডাক শুনতে পান তিনি।
রুনা খাতুন বলেন, “গর্তটির মুখ খড় দিয়ে ঢাকা ছিল। আমরা কেউই লুকানো গর্তটি দেখতে পাইনি।”
স্থানীয়রা জানান, কোয়েলহাট গ্রামে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় এক বাসিন্দা পানির স্তর পরীক্ষা করতে গর্তটি করেছিলেন। পরে সেটি ভরাট করে দেওয়া হলেও বর্ষার পানিতে মাটি ধসে পড়ে পুরনো গর্তটি আবার বের হয়ে আসে।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, দুপুর ১টার দিকে শিশুটি খুব সরু পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে গেলে সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খনন কাজ শুরু করে।
তিনি আরও জানান, ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ দড়ি দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে, যাতে উদ্ধারকাজ ব্যাহত না হয়।
এদিকে আশপাশের গ্রাম থেকে এসে শত শত মানুষ উদ্ধার অভিযান দেখছেন এবং শিশুটির জীবনের জন্য দোয়া করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে টানটান উত্তেজনার মধ্যে তারা অপেক্ষা করছেন।
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের সরু ও গভীর গর্তে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল।
উদ্ধার কর্মকর্তারা বলেন, “এ ধরনের অভিযানে তাড়াহুড়া করা যায় না। প্রতিটি ইঞ্চি খনন সঠিকভাবে না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।”