মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
লোহাগাড়া থানার পুলিশের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ধরতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হয়রানি, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া এবং অসহযোগিতার যে চিত্র উঠে এসেছে, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা আরও নিচে নামিয়ে দিয়েছে।
জানা গেছে, সিআর মামলা নং–৩১৩/২০২৫-এর পাঁচ আসামির মধ্যে দুইজন নারী এবং তিনজন পুরুষ—কিন্তু ওয়ারেন্ট থাকলেও তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সুস্পষ্ট অনীহা ও গড়িমসি বিচারপ্রার্থীদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে ওয়ারেন্ট বাস্তবায়নের আবেদন করলে তারা জানান—”নারী আসামি ধরতে ওসি ও এএসপি’র অনুমতি প্রয়োজন”। অথচ কোনো আইনেই এরূপ পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা নেই।
বিষয়টি জানাতে ভুক্তভোগী সাতকানিয়া সার্কেলের এএসপি আরিফুর রহমান সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি স্পষ্ট বলেন—ওয়ারেন্টের আসামী গ্রেপ্তারে কোনো বাধা নেই। আইনত পুলিশই তা করবে। কিন্তু নির্দেশনা পাওয়ার পরও থানার ওসি (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার মৌমিক দায়িত্ব নিজেদের সেকেন্ড অফিসার জাহিদের উপর চাপিয়ে দেন। পরে সেকেন্ড অফিসার ভুক্তভোগীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেটের মতো জেরা করেন। সবশেষে পুলিশ সদস্য স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে বলেন—আপনি যান, পুলিশ পাঠাবো। কিন্তু সেই পুলিশ আর যায়নি। ফলে ৩ ডিসেম্বর লোহাগাড়া থানায় ওয়ারেন্ট পৌঁছানোর পরও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, যা আইনের প্রতি প্রকাশ্য অবহেলা এবং দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও পুলিশ যখন গ্রেপ্তার অভিযান চালায় না, তখন অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এতে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হয় এবং সমাজে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, ওয়ারেন্টেড আসামি গ্রেপ্তার করা পুলিশের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। সেখানে অযথা জেরা, সময়ক্ষেপণ এবং দায়িত্ব অন্যের উপর ঠেলে দেওয়া স্পষ্টভাবে দণ্ডবিধি ও পুলিশ রেগুলেশনের লঙ্ঘন। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—লোহাগাড়া থানা কি আইনের কাছে জবাবদিহির আওতায় নয়? ওয়ারেন্ট কি শুধু কাগজেই থাকে—বাস্তবায়ন পুলিশের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে? এ ধরনের অনীহা ও অবহেলা শুধু ভুক্তভোগীর ক্ষতিই বাড়ায় না, বরং ন্যায়বিচারের মৌলিক ভিত্তিকে দুর্বল করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।