নিউজ ডেস্ক
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ২০২৬, রাত ৮:২৩ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক আইন শক্তিশালী করা এবং যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি এই পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে। এ বছর মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে তাকে নির্বাচিত করা হয়।
আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘদিনের ভূমিকার প্রশংসা করে নোবেল কমিটি। কমিটির ভাষ্য, অসাধারণ সাহস ও সততার সঙ্গে তিনি বিশ্বজুড়ে কার্যকর আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে বর্ণবাদী শাসনামলে জন্মগ্রহণ করেন। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াই করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ আদালত, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন।
আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় নাভি পিল্লাইয়ের অন্যতম অবদান হলো যৌন সহিংসতাকে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা যে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অংশ হতে পারে, সেই আইনি স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠায় তার প্রভাব ছিল অপরিসীম। বর্তমানে তিনি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নোবেল কমিটি জানায়, আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যুদ্ধ ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব—নাভি পিল্লাইয়ের কর্মজীবনে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রনেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের আশা জোগাতে তিনি নিরলস কাজ করেছেন। তার স্বাধীনতা, দক্ষতা ও দৃঢ় অবস্থান তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যতম সম্মানিত আইনজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আইনের শাসনের গুরুত্ব
নোবেল কমিটির মতে, বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থা নানা চাপের মুখে রয়েছে। শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং বিচারব্যবস্থার ওপর আক্রমণ আইনের শাসনকে দুর্বল করছে। এমন পরিস্থিতিতে নাভি পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরতে চেয়েছে কমিটি। তাদের ভাষ্য, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়বিচার অপরিহার্য এবং আইনের শাসন ছাড়া বিশ্বব্যবস্থা অন্যায্য ও অমানবিক হয়ে ওঠে।