দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে পরিচালিত গ্রাম আদালতে সরকারি নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন খাতের ব্যয়ের কথা দেখিয়ে সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
এ ঘটনায় হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবরক্ষক কাম কম্পিউটার অপারেটর আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এক ভুক্তভোগী। অভিযোগের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ভিডিও প্রমাণও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে গ্রাম আদালত পরিচালিত হয়। মামলার ধরন অনুযায়ী গ্রাম আদালত গঠন করা হয়, যেখানে স্বল্প সময় ও কম খরচে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ বিদ্যমান। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী গ্রাম আদালতে দেওয়ানি মামলার ফি ২০ টাকা এবং ফৌজদারি মামলার ফি ১০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
তবে, বাস্তবে গ্রাম আদালতের সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ ও প্রান্তিক জনগণকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার ধরনভেদে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের আল্লারদর্গা বাজার এলাকার এক ফুচকা ও ঝালমুড়ি ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, স্বামী-স্ত্রীর কলহ সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রাম আদালতে মামলা দায়ের থেকে শুরু করে হাজিরা পর্যন্ত তার এক হাজার টাকা খরচ হয়েছে। একই ইউনিয়নের মুন্না মিয়া নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, একটি অভিযোগ দায়ের করতে তার কাছ থেকে ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এদিকে নান্টু আলী নামের এক ব্যক্তি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ এবং অর্থ আদায়ের প্রমাণাদি দাখিল করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক কাম কম্পিউটার অপারেটর আবু সুফিয়ানের কাছে জানতে চাইলে তিনি অতিরিক্ত ৩০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে দাবি করেন, তিনি যোগদানের পর থেকেই এভাবেই টাকা নেওয়া হয়ে আসছে।
যদিও ৪০০ থেকে এক হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ সময় তিনি পরিষদের ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে এমনটি করেছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী ও ইউনিয়ন সচিব সিদ্দিকুর রহমান দুজনই জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না।
জানতে চাইলে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।