তৌহিদুল ইসলাম কানন
সংবাদকর্মী, পলাশবাড়ী
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনে তথ্য গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে
অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাশবাড়ী পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী গ্রামের মৃত আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে নুরে আলম সিদ্দিক। এ অভিযোগ করেছেন তার মামাতো বোন, বাড়াই গ্রামের মোস্তাফিজারের কন্যা মরিয়ম বেগম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পলাশবাড়ী পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী মৌজায় অবস্থিত ১৬ শতাংশ পৈত্রিক জমির বৈধ অংশীদার মরিয়ম বেগমের মা ও খালা। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নুরে আলম সিদ্দিক জোরপূর্বক ওই জমি দখলে রেখে আসছেন। সম্প্রতি ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় জমিটির একটি অংশ সরকার অধিগ্রহণ করে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের সময় নুরে আলম সিদ্দিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে সম্পূর্ণ অর্থ এককভাবে আত্মসাতের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। অথচ অধিগ্রহণ নোটিশের ৪, ৭ ও ৮ ধারায় মরিয়ম বেগমের মা, খালাসহ অন্যান্য ওয়ারিশদের নাম ও মালিকানা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো ল্যান্ড অফিসার (এলও) সরেজমিনে তদন্তে গেলে ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তদন্ত কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজার রহমানের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় মরিয়ম বেগম ও তার স্বজনরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত নুরে আলম সিদ্দিক তদন্ত কর্মকর্তাকে বিভ্রান্ত করতে ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিকদের জানান, মোট ১৬ শতাংশ জমির মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ভাইয়ের প্রাপ্য হলেও অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ চার বোনের আইনগত অংশ। তা সত্ত্বেও নুরে আলম সিদ্দিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অধিগ্রহণকৃত জমির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণের অর্থ একাই হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং অবশিষ্ট জমিও দখলে রাখার পাঁয়তারা করছেন। তারা ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে নুরে আলম সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, গ্রামে তার অন্যান্য জমি রয়েছে এবং সেখান থেকে অংশীদারদের পাওনা পরিশোধের চিন্তা করছেন। তবে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা এককভাবে উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ভুক্তভোগী পরিবারটি ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। বিষয়টি বর্তমানে জেলা প্রশাসন ও ল্যান্ড অফিসের তদন্তাধীন রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সঠিক তদন্ত ও প্রকৃত ওয়ারিশ শনাক্ত না হলে সরকারি অর্থ অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ওয়ারিশদের যাচাই–বাছাই করে আইন অনুযায়ী ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে তথ্য গোপন, জালিয়াতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ যেন ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করতে না পারে—সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।