কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশের উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে জেঁকে বসা তীব্র শীতে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। হিমালয়ের পাদদেশ থেকে আসা হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার কারণে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার চরাঞ্চলগুলোতে এখন চরম মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দুর্গম চরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ছাড়াই মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
রোববার কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানিয়েছে, জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৩° সেলসিয়াস। তবে বাতাসে ৯৯ শতাংশ আর্দ্রতা থাকায় শীতের অনুভূতি বহুগুণ বেড়েছে।
ত্রাণের জন্য হাহাকার ও বিতরণে বৈষম্য তীব্র শীতের কবলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষ। উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে প্রায় ৩২ হাজার মানুষের বসবাস হলেও সেখানে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০০টি কম্বল।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন শত শত মানুষ কম্বলের আশায় ভিড় করছে, কিন্তু ৯টি ওয়ার্ডে ১০০টি কম্বল আমি কীভাবে ভাগ করব? তার ওপর উপজেলা থেকে এই কম্বল আনতে নৌকা ভাড়া বাবদই খরচ হয় তিন হাজার টাকা।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসন থেকে ২২ হাজার কম্বল বিতরণের দাবি করা হলেও দুর্গম ২৬৯টি চরের অধিকাংশ মানুষ এখনো কোনো সহায়তা পাননি। শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা একে প্রশাসনের ‘ফটোসেশন’ হিসেবে অভিহিত করে বলছেন, প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না।
স্থবির শ্রমবাজার ও অনাহারের ঝুঁকি প্রচণ্ড ঠান্ডায় মাঠে কাজ করতে পারছেন না কৃষিশ্রমিকরা। একই অবস্থা ভ্যানচালক ও মাঝিদেরও। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু পরিবার এখন অনাহারের মুখে পড়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির তথ্যমতে, জেলার মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ‘অতিদরিদ্র’, যারা পরদিন কী খাবেন তা জানেন না। অথচ এই সংকটের সময় জেলায় কর্মরত ৬১টি এনজিওর কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা নেই বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুল আখের।
সঠিক তালিকার অভাব জেলার দারিদ্র্য ও ভূমিহীন মানুষের সংখ্যার কোনো নির্ভরযোগ্য তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে নেই বলে দাবি করেছেন অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। তার মতে, সঠিক তালিকা না থাকায় এবং ভোটের রাজনীতির কারণে সরকারি সহায়তা প্রায়ই ভুল হাতে চলে যাচ্ছে।
তবে কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, জেলাজুড়ে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ৯টি উপজেলায় ইতোমধ্যে ২২ হাজার কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।