নজরুল ইসলাম যশোর প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ। দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগে জীবিকা হারানো পরিবার এবং নিয়ন্ত্রণহীন ইটভাটাকে কেন্দ্র করে শিশুরা স্কুল ছেড়ে শ্রমে নামতে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দায় সারছে অসচ্ছল পরিবারগুলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,কৈখালী,নুরনগর,পদ্মপুকুর,গাবুরা, মুন্সীগঞ্জসহ একাধিক ইউনিয়নে ইটভাটা, চিংড়িঘের ও বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কাজে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়মিত কাজে লাগানো হচ্ছে। বিদ্যালয়মুখী করার পরিবর্তে শিশুরা দৈনিক মজুরির বিনিময়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে অভাব ও সামাজিক অনিশ্চয়তার অজুহাতে কিশোরীদের বাল্য বিবাহ দিচ্ছে পরিবারগুলো।
অভিযোগ উঠেছে, এই গুরুতর সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ভূমিকা চোখে পড়ছে না। আইন থাকলেও তার প্রয়োগ প্রায় অনুপস্থিত, ফলে শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ যেন নীরবে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। এই অবস্থায় ব্যতিক্রমী কণ্ঠ হিসেবে মাঠে সক্রিয়ভাবে আওয়াজ তুলছেন গণসংহতি আন্দোলনের সাতক্ষীরা জেলা সংগঠক, সুন্দরবন ইয়ুথ ফ্রেন্ডশীপের পরিচালক মোঃ আলফাত হোসেন। তিনি উপকূলজুড়ে সচেতনতামূলক সভা, মানববন্ধন এবং স্থানীয় মানুষকে সংগঠিত করে শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
মোঃ আলফাত হোসেন বলেন,দারিদ্র্য আর রাষ্ট্রীয় অবহেলার সুযোগে শিশুদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হচ্ছে। ইটভাটা মালিকদের স্বার্থ আর প্রশাসনের নীরবতায় উপকূলের শিশুরা শ্রমিকে পরিণত হচ্ছে, মেয়েরা হারাচ্ছে শৈশব। এটা শুধু সামাজিক নয়, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা।তিনি অবিলম্বে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটা বন্ধ, ঝরে পড়া শিশুদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, পরিবারভিত্তিক সহায়তা এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা দাবি করেন।
সচেতন মহলের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে উপকূলীয় শ্যামনগরে একটি পুরো প্রজন্ম শিক্ষা ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হবে।শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ রোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক তৎপরতার কোনো বিকল্প নেই।