স্টাফ রিপোর্ট।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোর যশোর জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের পুরোনো রেকর্ড রুমে এক ভয়াবহ ও ‘রহস্যজনক’ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো কয়েক হাজার গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বিদ্যুৎ সংযোগহীন ও তালাবদ্ধ একটি ভবনে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনমনে গভীর রহস্যের দানা বেঁধেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় অবস্থিত ওই পুরোনো ভবনটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ১৭৪১ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত যশোরের কয়েক প্রজন্মের ঐতিহাসিক রেকর্ড বুক ও বালাম বইয়ের বড় অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই আগুন যশোর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানিয়েছেন, তারা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন ভবনটির মূল গেটে তালা লাগানো ছিল। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, ওই ভবনে কোনো ধরণের বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল না। ফলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয়দের ধারণা, কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তালাবদ্ধ কক্ষের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
হারিয়ে গেল অমূল্য নথি শার্শা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন, যিনি আগে এই রেকর্ড রুমে কর্মরত ছিলেন, তিনি জানিয়েছেন পুড়ে যাওয়া নথিপত্রগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। ১৭৪১ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও আশেপাশের অঞ্চলের জমির মালিকানা ও বিবর্তনের প্রধান দলিলগুলো এখানেই সংরক্ষিত ছিল। অগ্নিকাণ্ডের ফলে অনেক ভলিউম বুক ও টিপবই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অবশিষ্ট নথিগুলো অগ্নিনির্বাপণের সময় ব্যবহৃত পানিতে ভিজে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
নৈশপ্রহরীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঘটনার সময় ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিনজন নৈশপ্রহরীর কাউকেই সেখানে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন জানান, নৈশপ্রহরী হিরাসহ অন্যান্যদের অনুপস্থিতি এবং তালাবদ্ধ ভবনে আগুনের ঘটনাটি চরম সন্দেহজনক। অফিসের একটি সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ কোনো জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে এই আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে।
যশোর ফায়ার সার্ভিস তদন্তের পর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানাবে বলে জানিয়েছে। তবে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা তদন্ত কমিটি গঠনের খবর পাওয়া যায়নি।