যশোর ব্যুরো: যশোরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আট লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। অভিযুক্ত খতেজা বেগম রিতা ঠাকুরগাঁও জেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে টাস্ক কালেক্টর (টিসি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বুধবার যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন। ভুক্তভোগী শেখ সাদি নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন।
টাকা লেনদেন ও চাকরির প্রতিশ্রুতি মামলার আরজি থেকে জানা যায়, শেখ সাদির স্ত্রীর জন্য একটি চাকরির খোঁজ করছিলেন তিনি। সেই সূত্রে তার দুলাভাইয়ের প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা খতেজা বেগম রিতার সাথে তার পরিচয় হয়। রিতা তাকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং এর বিনিময়ে ১২ লাখ টাকা দাবি করেন।
বাদী শেখ সাদি জানান, তিনি সরল বিশ্বাসে দুই দফায় রিতাকে মোট ৮ লাখ টাকা প্রদান করেন। এই লেনদেনের প্রেক্ষিতে রিতা একটি লিখিত চুক্তিনামাও সম্পাদন করেছিলেন, যেখানে উল্লেখ ছিল যে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে তিনি চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন।
আদালতে যাওয়ার কারণ চুক্তির মেয়াদ পার হয়ে গেলেও রিতা চাকরি দিতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে শেখ সাদি তার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে রিতা তা দিতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানান। টাকা উদ্ধারের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই শেষে বিচারক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। নির্ধারিত তারিখে তাকে আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের নামে এমন আর্থিক লেনদেন ও প্রতারণার ঘটনা প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। তবে খোদ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন লিখিত চুক্তির মাধ্যমে টাকা নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয় মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।