যশোর ব্যুরো
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের চৌগাছায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার পর বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে হামলাকারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার সলুয়া বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন যশোর সদর উপজেলার জগহাটি গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪২) এবং একই গ্রামের আব্দুল আলীম পলাশ (৩৫)। এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিরোধের প্রেক্ষাপট স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত রফিকুল ও পলাশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি কেনাবেচা নিয়ে বিরোধ চলছিল। পলাশ তার একটি জমি রফিকুলের কাছে বিক্রি করার পর সম্প্রতি সেটি আবার নিজের মা ও বোনের নামে ‘হেবা’ বা দান করে দেন। রফিকুল এই আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন এবং পলাশকে ওই দলিল বাতিলের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।
প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা মঙ্গলবার দুপুরে চৌগাছা উপজেলার সলুয়া কলেজ সংলগ্ন একটি স’মিলের সামনে রফিকুলকে একা পেয়ে হামলা চালান পলাশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পলাশ তার কাছে থাকা ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে রফিকুলের মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। রফিকুল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইল পৌঁছালে রফিকুলের মৃত্যু হয়।
গণপিটুনি ও দ্বিতীয় মৃত্যু এদিকে রফিকুলের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে সলুয়া বাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা হামলাকারী পলাশকে ঘটনাস্থল থেকে ধরে ফেলেন এবং গণপিটুনি দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পলাশকেও মৃত ঘোষণা করেন।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করীম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “পলাশ এলাকায় সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অভিযোগ ছিল। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি রফিকুলকে কুপিয়ে হত্যা করেন এবং পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়।”
বর্তমানে সলুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।