নরসিংদী প্রতিনিধি । নরসিংদীর রায়পুরায় এক সময়ের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত আহমেদুল কবির অপুর (৪২) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের একটি স’মিল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত অপু ২০২৪ সালের জুলাই মাসে নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের একজন ছিলেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত অপুর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদক আইনে অন্তত ৯টি মামলা রয়েছে এবং তিনি একটি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন।
যেভাবে পাওয়া গেল মরদেহ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মরজালের বশির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি স’মিলে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অপুর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের পাশ থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার রাতের কোনো এক সময়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, ওই রাতে স’মিলের পাশের এলাকায় ধর্মীয় উৎসব (কীর্তন) চলায় মানুষের আনাগোনা ছিল, কিন্তু এর মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
জেল পালানো ও পলাতক জীবন পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় যে কয়েকশ বন্দি পালিয়ে গিয়েছিলেন, অপু ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। এরপর থেকে তিনি পলাতক থাকলেও মাঝেমধ্যে এলাকায় আসতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ৪-৫ জন পরিচিত লোকের সঙ্গে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মরদেহের ছবি দেখে তার বোন মিতা তাকে শনাক্ত করেন।
পুলিশের তদন্ত ও ভাষ্য রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, নিহত অপুর বিরুদ্ধে দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল এবং একটি হত্যা মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তা নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, “অপু পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী ছিলেন। তার মাথার আঘাতের ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে তাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছি এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছি।”