টেলিগ্রাফ ডেস্ক | গত দেড় বছরে নানা দাবি আদায়ে আন্দোলনকারীরা ১ হাজার ১০০-রও বেশি বার সড়ক অবরোধ হয়েছে রাজধানী শহর ঢাকায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন—কারও মধ্যেই রাস্তা অবরোধের প্রবণতায় পিছিয়ে থাকার চিত্র দেখা যায়নি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বিশেষ করে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ; সেখানে অন্তত ৩৫০ দিন কোনো না কোনোভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের দুর্বল অবস্থানকে কাজে লাগিয়েই চাপ সৃষ্টি করে দাবি আদায়ের কৌশল হিসেবে এই অবরোধগুলো বাড়ছে।
সর্বশেষ গত ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর ফার্মগেটে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন সাধারণ মানুষ। ওই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এক ভুক্তভোগী নারী। একই দিনে সাইন্সল্যাব মোড়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে প্রায় আট ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি একপর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, আন্দোলনকারীদের যাত্রীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধের সংখ্যা ১১০০’র বেশি। ইচ্ছেমতো রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলনের ফলে প্রতিদিনই দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন ঢাকার বাসিন্দারা।
গত ১৭ মাসে সবচেয়ে বেশি অবরোধ হয়েছে শাহবাগ এলাকায়। রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি প্রায় ৩৫০ দিন অচল ছিল। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাড়তি চাপ সামলাতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
ট্রাফিক পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম জানান, এসব পরিস্থিতিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকে। তাই তিনি আন্দোলনকারীদের জনদুর্ভোগ না বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর মানুষের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সড়ক অবরোধ করলেই দাবি আদায় সহজ হবে, আর কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মহলও এতে উসকানি দিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই বারবার রাজপথ অচল করা হচ্ছে। তার ভাষায়, সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে পারলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যেমনটি উন্নত দেশগুলো করে থাকে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, সড়ক অবরোধ নিষিদ্ধ করার চেয়ে বরং কেন এ ধরনের আন্দোলন ঘন ঘন হচ্ছে—সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই সরকারের জন্য বেশি জরুরি।
#আরএ