চৌগাছা প্রতিনিধি ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের চৌগাছায় একটি বরযাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের টেঙ্গুরপুর মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে বিয়ে শেষে ফেরার পথে চালক রাস্তার একটি গতিরোধক বা স্পিডব্রেকার খেয়াল না করায় বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
দুর্ঘটনাটি যেভাবে ঘটল স্থানীয় সূত্র ও আহত যাত্রীদের ভাষ্যমতে, ‘গড়াই’ পরিবহনের একটি বাসে করে ৬৫ জন বরযাত্রী মহেশপুরের বাথানগাছি গ্রাম থেকে যশোরের নওয়াপাড়ার দিকে ফিরছিলেন। টেঙ্গুরপুর মোড়ে পৌঁছালে সামনের একটি স্পিডব্রেকার চালকের নজরে আসেনি। দ্রুতগতির বাসটি স্পিডব্রেকারের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে ছিটকে পড়ে। এতে বাসের ভেতরে থাকা নারী ও শিশুসহ অধিকাংশ যাত্রীই কমবেশি আঘাত পান।
উদ্ধার অভিযান ও চিকিৎসা দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন। চৌগাছা ফায়ার সার্ভিসের লিডার আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আখেরী জামান জানান, আহতদের অনেকের হাড় ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে গুরুতর জখম হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে প্রদীপ কুমার (৬৫), রিনা দাস (৬০), অরিত্র দাস (১৫) ও প্রিয়াঙ্কা দাসের (৪০) মতো নারী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের বক্তব্য চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। বাসটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ছিল কি না এবং চালকের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিয়ের উৎসব শেষে ফেরার পথে এমন দুর্ঘটনায় বরযাত্রীদের পরিবার ও নওয়াপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।