1. bdtelegraph24@gmail.com : বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক :
  2. suma59630@gmail.com : ফাতেমা আকতার তোয়া : ফাতেমা আকতার তোয়া
  3. limonhosen529@gmail.com : Limon Hossain : Limon Hossain
  4. mirzagonj@bdtelegraph24.com : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
  5. tarim7866@gmail.com : তারিম আহমেদ : তারিম আহমেদ
  6. wasifur716@gmail.com : Wasifur Rahaman : Wasifur Rahaman
বদলির আদেশ অকার্যকর! বিএডিসিতে হারুন অর রশিদের রাজনৈতিক দাপট অটুট - bdtelegraph24.com
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লোহাগাড়ার ৯ ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী যাচাই-বাছাই কমিটির মতবিনিময় নেত্রকোণায় আবাসিক বাসায় ভারতীয় চোরাই পণ্যের গুদাম, চক্রের হোতা আটক দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল: ডিএসসিসি প্রশাসক কালিয়াকৈরে কলোনিতে অগ্নিকাণ্ড: ৮ কক্ষের মালামাল পুড়ে ছাই কুষ্টিয়ায় লালন মাজার এলাকায় হামলার শিকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভূমিহীনদের চাকরি না দেওয়ার বিধান কোথায়, প্রশ্ন শিক্ষামন্ত্রীর চাকরিপ্রার্থীর ভেরিফিকেশনে বাধা: জমিহীন তরুণকে জমি দিলেন হিন্দু প্রতিবেশী ডিমের কুসুম খেলে কি হার্টের ঝুঁকি বাড়ে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ পাকিস্তানি নারী এজেন্টের সঙ্গে তথ্য পাচার: ভারতীয় নৌবাহিনীর নাবিক গ্রেপ্তার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা

বদলির আদেশ অকার্যকর! বিএডিসিতে হারুন অর রশিদের রাজনৈতিক দাপট অটুট

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪০ জন খবরটি পড়েছেন

মোঃ মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী প্রতিনিধি।

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন
Telegraph Bangladesh WHATSAPP Channel

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন

দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর একটি সাম্প্রতিক বদলি আদেশ এখন কেবল প্রশাসনিক নথির বিষয় নয়; বরং এটি কর্পোরেশনের ভেতরে-বাইরে রাজনৈতিক প্রভাব, শ্রমিক রাজনীতি ও ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজশাহী থেকে বগুড়ায় বদলি হওয়া সত্ত্বেও মো. হারুন অর রশিদ যেভাবে বহাল তবিয়তেই রয়ে গেছেন, তাতে সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট—এটি শুধু বদলির গল্প নয়, এটি রাজনৈতিক দাপট ও দীর্ঘদিনের প্রভাব বলয়ের প্রতিফলন। তিনি বিএডিসি শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন দিন উপ- পরিচালকের দ্বায়িত্ব পালন কালে নানা অনিয়ম দূর্নীতি সাথে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

বিএডিসির সংস্থাপন বিভাগ থেকে জারিকৃত অফিস আদেশে সীড টেস্টার পদে কর্মরত মো. হারুন অর রশিদকে উপপরিচালক (পাটবীজ) দপ্তর, বিএডিসি রাজশাহী থেকে একই পদে উপপরিচালক (পাটবীজ) দপ্তর, বিএডিসি বগুড়ায় বদলি করা হয় এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর বলেও উল্লেখ থাকে। প্রশাসনিক দৃষ্টিতে এটি একটি নিয়মিত বদলি হলেও আদেশ জারির পরপরই কর্পোরেশনের অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—যদি বদলি কার্যকরই হয়, তাহলে কেন তাঁর সাংগঠনিক অবস্থান অটুট রইলো, কেন তিনি এখনও বিএডিসি শ্রমিক কর্মচারী লীগ (সিবিএ)-এর রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্বে বহাল।

বিএডিসির অভ্যন্তরীণ একাধিক অফিস সূত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে জানায়, এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে মো. হারুন অর রশিদের রাজনৈতিক পরিচয়, মাঠপর্যায়ের দাপট ও দীর্ঘদিনের প্রভাব বলয়ের মধ্যে। সূত্রগুলোর মতে, তিনি কেবল একজন কর্মচারী নন; তিনি রাজশাহী অঞ্চলের শ্রমিক রাজনীতির এমন এক অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক বাস্তবতার সীমা অতিক্রম করতে পারে না। এক অফিস সূত্রের ভাষায়, “বদলি কাগজে হয়, কিন্তু ক্ষমতা মাঠে—হারুন অর রশিদের ক্ষেত্রে সেটাই দেখা যাচ্ছে।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে উঠে আসে আরও স্পষ্ট চিত্র। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে মো. হারুন অর রশিদ জাতীয় শ্রমিক লীগের ঘনিষ্ঠ দোসর হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাধিক অফিস সূত্র জানায়, জাতীয় শ্রমিক লীগের মিছিল, সভা ও সমাবেশে তাঁকে নিয়মিত সামনের কাতারে থাকতে দেখা যেত। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এই দৃশ্যমান উপস্থিতি তাঁকে শাসকদলের শ্রমিক রাজনীতির একজন প্রভাবশালী মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, যার রেশ এখনও কাটেনি বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

একজন শ্রমিক সংগঠক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় শ্রমিক লীগের যেকোনো বড় কর্মসূচিতে হারুন অর রশিদ মানেই সামনের সারি—এই বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।” আরেকটি সূত্র আরও সরাসরি মন্তব্য করে জানায়, “এই রাজনৈতিক পরিচয়ই আজও তাঁকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে; বদলি হলেও তাঁকে সাংগঠনিকভাবে স্পর্শ করা হয়নি।”

সূত্রগুলো আরও জানায়, রাজশাহী জেলা শাখায় তাঁর বিকল্প নেতৃত্ব এখনো দৃশ্যমানভাবে গড়ে না ওঠায় তাঁকে সরানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও অনীহা ছিল। কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, মাঠপর্যায়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং অতীতের রাজনৈতিক সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে তাঁকে বাদ দিয়ে সংগঠন চালানোর ঝুঁকি নিতে চায়নি সংশ্লিষ্ট মহল।

রাজশাহী অঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যেও তাঁর অবস্থান এখনো শক্ত। কেউ কেউ তাঁকে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দেখেন, আবার কেউ কেউ নীরবে স্বীকার করেন—তাঁর প্রভাব উপেক্ষা করা বাস্তবে কঠিন। এক জ্যেষ্ঠ কর্মচারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “তিনি যেটা বলেন, সেটার পেছনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ওজন থাকে—এটাই বাস্তবতা।”

বিএডিসির প্রশাসনিক অন্দরমহলেও এই প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা। তাঁদের মতে, কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে বদলি একটি কাগুজে সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকে; বাস্তব ব্যবস্থাপনায় তাঁদের অবস্থান হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। মো. হারুন অর রশিদের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

সব মিলিয়ে চিত্রটি স্পষ্ট—প্রশাসনিকভাবে বদলি হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সক্রিয় ভূমিকা, জাতীয় শ্রমিক লীগের মিছিল-মিটিংয়ে সামনের কাতারে উপস্থিতি এবং শ্রমিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের দাপটের কারণেই মো. হারুন অর রশিদ আজও বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। বদলেছে তাঁর কর্মস্থলের ঠিকানা, কিন্তু বদলায়নি তাঁর ক্ষমতার অবস্থান কিংবা প্রভাব বলয়। ১৬ বছর যাবৎ তিনি রাজশাহীতে কর্মরত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (পাটবীজ) রাজশাহী জেলার উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ বলেন, আমি বিএডিসি শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলাম। তবে কোনো অন্যায় কাজে ছিলাম না।
কথা বলতে বিএডিসি রাজশাহীর উপ-পরিচালককে (পাটবীজ) একাধিকবার ফোন দিলেও এইচ এস জাহিদুল ফেরদৌস ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2025
Theme Customized By BreakingNews

টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল

Close Welcome Bar