মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় সরকার ঘোষিত নারী উন্নয়ন ও সুরক্ষা কার্যক্রম কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও প্রশাসনিক গাফিলতির নগ্ন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তরটি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, দুঃস্থ ও অসহায় নারীদের পুনর্বাসন, আইনগত সহায়তা, কাউন্সেলিং, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অথচ লোহাগাড়ায় এ গুরুত্বপূর্ণ পদটি দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য থাকায় দপ্তরের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সমন্বয়ের অভাবে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সেবাপ্রার্থীদেরকে উপজেলা প্রশাসন কিংবা জেলা কার্যালয়ে ঘুরতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় সেবা প্রদানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কর্মকর্তা না থাকায় অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত প্রক্রিয়া, নিয়মিত রিপোর্টিং ও তদারকি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত নারী উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সেবা নিতে আসা একাধিক নারী জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এসে তারা কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাক্ষাৎ পান না। ফলে তারা নিরুপায় হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং সংবিধানস্বীকৃত নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরাসরি অন্তরায় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজ অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লোহাগাড়া উপজেলায় দ্রুত একজন পূর্ণকালীন ও দায়িত্বশীল মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য রাখার পেছনে দায়ী কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও উঠেছে।
প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতার কারণে নারী সমাজ যাতে আর কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই এখন সময়ের দাবি।