তৌহিদুল ইসলাম কানন, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ছাত্র শিবিরের কর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীদের অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে গাইবান্ধা-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী লেবু মাওলানার পক্ষে প্রচারণার সময় মহদিপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি বাজারে এই হামলার সূত্রপাত হয়।
প্রচারণায় বাধা ও হামলা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে আমলাগাছি বাজারে ছাত্র শিবিরের কর্মীরা প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা প্লাবন সরকার ওরফে লিটন তার সহযোগীদের নিয়ে তাদের বাধা দেন। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে লিটন ও তার কর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, লিটন তার কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে এক কর্মীর নাকে আঘাত করেন এবং সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হাসপাতালের সামনে দ্বিতীয় দফা উত্তেজনা আহত কর্মীরা চিকিৎসার জন্য পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে হাসপাতাল গেটের সামনে আবারো তাদের পথরোধ করা হয়। প্রাণভয়ে শিবিরের কর্মীরা পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে অভিযুক্ত লিটন প্রকাশ্যে পিস্তল বের করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় সাধারণ মানুষ সাহসের সাথে এগিয়ে আসেন। তারা লিটন ও তার সহযোগীদের ঘেরাও করে আটক করেন এবং পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঘটনার পর থেকে পলাশবাড়ী এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। সচেতন মহলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।