ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সীমান্তের কাঁটাতার মাঝখানে থাকলেও কেবল মানবিক কারণে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভারতে মৃত্যুবরণ করা ৯৮ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশে বসবাসরত তাঁর দুই মেয়ে।
বুধবার দুপুরে ভোমরা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বিজিবি ও বিএসএফের বিশেষ তত্ত্বাবধানে এই সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। সীমান্তের দুই দেশের প্রহরীদের উপস্থিতিতেই তৈরি হয় এক শোকাতুর পরিবেশ।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঘোজাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা জরিনা খাতুন মঙ্গলবার রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। তাঁর দুই মেয়ে শিরিনা খাতুন ও আলেয়া খাতুন বৈবাহিক সূত্রে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাড়দ্দহা গ্রামে বসবাস করেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষবার দেখার আকুতি জানিয়ে তাঁরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে আবেদন করেন।
একই সময়ে ভারতের দিক থেকেও পরিবারের পক্ষ থেকে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে আবেদন জানানো হয়।
উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বিজিবির সাতক্ষীরা ৩৩ ব্যাটালিয়নের ভোমরা বিওপি এবং ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বিএসএফ ক্যাম্প যৌথভাবে জিরো পয়েন্টে মরদেহ আনার ব্যবস্থা করে।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সীমিত সময়ের জন্য দুই মেয়ে তাঁদের মৃত মায়ের মুখ দেখার এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে কথা বলার সুযোগ পান। শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি ভারতের অভ্যন্তরে দাফনের জন্য পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর এমন মানবিক সমন্বয়ের প্রশংসা করেছেন উপস্থিত স্থানীয়রা।