হাতিয়া সংবাদদাতা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে এক নারীকে ধর্ষণের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ বলছে, ওই এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও ধর্ষণের কোনো প্রাথমিক তথ্য তারা পায়নি।
বর্তমানে ওই নারী নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে তাঁর নিরাপত্তার জন্য সাত সদস্যের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ৩২ বছর বয়সী ওই নারীর দাবি, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে মারধর করে এবং আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি তাঁকে ধর্ষণ করেন। তবে অভিযুক্ত আবদুর রহমান এই অভিযোগকে ‘সাজানো নাটক’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি ধানের শীষের পক্ষে কাজ করায় এনসিপির কর্মীরা তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে এবং তাঁকেও মারধর করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে তদন্তে শুক্রবার ও শনিবার দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ধর্ষণের দাবির পক্ষে কোনো তথ্য মেলেনি। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওসি) একই কথা জানিয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর শরীরে মারধরের চিহ্ন থাকতে পারে, কিন্তু ধর্ষণের আলামত প্রাথমিক পরীক্ষায় ধরা পড়েনি। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, কথিত এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা থাকলেও সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাসপাতালে একজন নারী এসআই ও একজন এএসআই-এর নেতৃত্বে পাঁচজন কনস্টেবল ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। তবে ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে হাতিয়া আসনে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক রেষারেষি থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত কি না, পুলিশ সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছে।