রকি হাসান কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সরকারি হাঁস প্রজনন খামারে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুপস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে একাধিক কর্মচারী রাতের আঁধারে সরকারি মেমো ছাড়াই হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ গ্রাহক প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল রাজস্ব থেকে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, খামারের ইলেকট্রিশিয়ান পদে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. হেদায়াতুল্লাহ নিয়মিতভাবে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উৎপাদিত হাঁসের বাচ্চা সরকারি মেমো ছাড়াই বিক্রি করে আসছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে নামে সাংবাদিকদের একটি টিম।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে খামার এলাকা থেকে একটি ভ্যানে করে প্রায় ৫০০ পিস হাঁসের বাচ্চা মেমো বিহীন বিক্রি করতে দেখা যায়। একই সময় অন্য একটি অটোযোগে দ্রুতগতিতে বাচ্চা বোঝাই গাড়ি শহরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে এলে অভিযুক্ত কর্মচারী তড়িঘড়ি করে অফিস কক্ষে প্রবেশ করে পরে একটি মেমো লিখেন।
মেমো ছাড়া বাচ্চা বিক্রির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মো. হেদায়াতুল্লাহ কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
জানা গেছে, মো. হেদায়াতুল্লাহ ১৯৮৭ সালে কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সরকারি হাঁস প্রজনন খামারে যোগদান করেন। প্রায় ৩৯ বছরের চাকরিজীবনে তিনি বিভিন্ন কৌশলে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে আউটসোর্সিং বিভাগের কর্মচারী মো. মারুফের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ছয় বছর আগে মহিষপাল প্রকল্পের আওতায় তিনি খামারে যোগদান করেন। তবে এক বছর আগে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেলেও কোনো অনুমোদন ছাড়াই তিনি এখনো খামারে কাজ করে যাচ্ছেন—তাও বিনা বেতনে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
সূত্র জানায়, সরকার নির্ধারিত হাঁসের ডিমের দাম হালি প্রতি ৩২ টাকা হলেও তিনি তা ৪০ টাকা করে বিক্রি করছেন। এতে প্রতিমাসে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম, আর সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সরকারি হাঁস প্রজনন খামারের ম্যানেজার আসমা আরা হোসনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“মেমো ছাড়া হাঁসের বাচ্চা বিক্রি বা সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে ডিম বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এমন অভিযোগের সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন,“খামারের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আমরা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন পাঠিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশ্ন উঠেছে—দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম চললেও কেন তা নজরে আসেনি? কার ছত্রছায়ায় রাতের আঁধারে সরকারি সম্পদ বিক্রি হচ্ছে? এসব অনিয়ম তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।