ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।
শনিবার ভোরে এক নজিরবিহীন অভিযানে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী (আইএএফ)। ইসরায়েল এই আক্রমণকে ইরানের সাম্প্রতিক “আগ্রাসনের জবাব” এবং নিজেদের সুরক্ষায় একটি “প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা” হিসেবে অভিহিত করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এবং জেরুজালেম পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল:
ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র: যেখান থেকে ইসরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: ইরানের রাডার এবং বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধ্বংস করে আকাশসীমাকে অরক্ষিত করে তোলা।
ড্রোন ঘাঁটি: তেহরানের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন ড্রোন সেন্টার।
হামলা শুরুর পরপরই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের দেশের নাগরিকদের জন্য একটি জরুরি জাতীয় সতর্কতা জারি করে। নাগরিকদের সুরক্ষিত স্থানের (Bombshelter) কাছাকাছি থাকার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে:
“ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে জনসাধারণের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এটি একটি সক্রিয় সতর্কতা।”
এই সতর্কবার্তা থেকে স্পষ্ট যে, ইসরায়েল কেবল হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং ইরানের পাল্টা জবাব (Counter-attack) মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, তেহরান এবং কারাজ শহরের আশেপাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বেশ কিছু ‘শত্রু লক্ষ্যবস্তু’ ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে তেহরানের বাসিন্দারা কয়েক মাইল দূর থেকেও বিকট শব্দ শুনতে পান। বর্তমানে ইরান তাদের আকাশসীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে এবং সমস্ত বেসামরিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো এই হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে:-যুক্তরাষ্ট্র: হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা এই অভিযানের বিষয়ে আগে থেকে জানত, তবে এতে তাদের সরাসরি কোনো অংশগ্রহণ নেই। তারা ইরানকে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘ: মহাসচিব গুতেরেস মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের দাবি জানিয়েছেন এবং এই ঘটনাকে “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অন্যান্য দেশ: তুরস্ক এবং সৌদি আরব এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধির কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল এবার সরাসরি ইরানের মাটিতে আঘাত করে এই বার্তা দিয়েছে যে, তাদের গোয়েন্দা এবং বিমান বাহিনী ইরানের ভেতরে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম। তবে ইরান যদি এই হামলার প্রতিশোধ নিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের (Full-scale regional war) সূচনা করতে পারে।