কামরুল ইসলাম রাঙামাটি প্রতিনিধি |
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ৯নং ওয়ার্ডের কলেজ গেট। প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের বসবাস এই জনপদে হলেও নাগরিক সুবিধার দিক থেকে এলাকাটি এখন সংকটে জর্জরিত। সরকারি সম্পদ দখল, অপরিকল্পিত বাণিজ্যিকীকরণ এবং অগ্নিনিরাপত্তার অভাব এলাকাটিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
এলাকাবাসীর প্রধান অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু—বিখ্যাত ‘নোয়াখালী যাত্রী ছাউনি’। সাধারণ যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য তৈরি এই রাষ্ট্রীয় সম্পদটি এখন পুরোপুরি একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘নোয়াখালী বৃহত্তম সমিতি’র মাধ্যমে এই যাত্রী ছাউনিটি দখল করে চারপাশ ঘিরে দোকান তৈরি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ জানান, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেও যাত্রী ছাউনির ভেতরে গিয়ে বসার কোনো উপায় নেই। অভিযোগ উঠেছে, এই দোকানগুলো থেকে মোটা অংকের জামানত নিয়ে মাসিক ভাড়া তোলা হচ্ছে, যা জনস্বার্থের বদলে সরাসরি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ নুরুন্নবী বলেন:
“যাত্রী ছাউনিটি এখন ব্যক্তিগত পকেট ভরার মাধ্যম। অবিলম্বে এই অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করে সাধারণ মানুষের বসার জায়গা উন্মুক্ত করার জন্য আমরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”
কলেজ গেট এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি হওয়ায় এখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরু গলি আর অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি প্রবেশের সুযোগ নেই বললেই চলে। স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে এই এলাকায় পানির পয়েন্ট (Fire Hydrant) বা বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
রাঙামাটির প্রশস্ত সড়কগুলো পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু কলেজ গেট থেকে শুরু করে প্রধান সড়কের দুই পাশ অবৈধ দোকানপাটের দখলে চলে যাওয়ায় শহর তার চিরচেনা সৌন্দর্য হারাচ্ছে। ফুটপাত দখল হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাফেরা দুরূহ হয়ে পড়েছে এবং নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র যানজট।
৯নং ওয়ার্ডের কলেজ গেট দিয়ে কাটাছড়ি যাওয়ার রাস্তাটি এলাকাবাসীর জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই এই রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে হাজার হাজার মানুষ মূল শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা জনদুর্ভোগকে চরমে নিয়ে পৌঁছায়।
দীর্ঘ ২৬ বছর পর রাঙামাটিবাসী একজন পূর্ণ মন্ত্রী পাওয়ায় এলাকায় নতুন করে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয়কে অভিনন্দন জানিয়ে মোহাম্মদ নুরুন্নবী বলেন,
“আমরা আশা করি, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেবেন। বিশেষ করে কলেজ গেটের যাত্রী ছাউনি পুনরুদ্ধার, সড়কের দুই পাশ দখলমুক্ত করে সৌন্দর্য বর্ধন এবং কাটাছড়ি সড়কটি স্থায়ী সংস্কারে তিনি দ্রুত হস্তক্ষেপ করবেন।”
কলেজ গেট এলাকার এই পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সম্পদ যাতে ব্যক্তির পকেটে না যায়, সেটি নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান চাওয়া।