বাঘারপাড়া (যশোর) সংবাদদাতা ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের বাঘারপাড়ায় অবৈধ মাটি কাটায় দুই ব্যাক্তিকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। আজ দুপুরে উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের মান্দিয়া টুটা নামের জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেন আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার
ভূপালী সরকার।
আদালত এসময় মাটি খনন যন্ত্রের (এস্কেভেটর) চালক সাব্বির হোসেন (১৮) ও তার পিতা সাহাব উদ্দিনকে ১লাখ৫০হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে প্রত্যেককে ৩মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। এছাড়াও দুটি
এস্কেভেটর, দুটি ড্রামট্রাক, ও একটি ট্রাক্টরসহ একটি ট্রলি জব্দ করা হয়েছে।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, দরাজহাট ইউনিয়নের কাকন মেম্বার র্দীঘদিন ধরে ক্ষকমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে অবৈধভাবে মাটি ও বালির ব্যবসা করে আসছিলেন। তার এসব অপকর্ম নিয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময়ে বাঘারপাড়া উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন। উপজেলার মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভায়ও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কয়েক দফায়। প্রসাশনের হস্তক্ষেপে মাঝে-মধ্যে ব্যবসা বন্ধ রাখলেও তিনি বিভিন্ন ঘাট ম্যানেজ করে আবারও ব্যবসা শুরু করেন। জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে তিনি বাঘারপাড়ার এক শীর্ষ এক নেতার ছেলেকে সাথে নিয়ে ও এনসিপি’র এক নেতার প্রত্যক্ষ মদদে শুরু করেন বালি উত্তোলনের ব্যবসা।
তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শোভন সরকারের হস্তক্ষেপে তা সাময়িক বন্ধ হয়। শোভন সরকারের বদলীর পর পুনরায় শুরু করেন মাটির ব্যবসা। শীর্ষ নেতার ঐ ছেলে আর এনসিপি নেতার সমন্বয়ে কাকন মেম্বার আর পেছনে ফিরে তাকাননি। দরাজহাট ইউনিয়নের সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের মান্দিয়া টুটা নামের জায়গায় বিভিন্ন ব্যাক্তির মালিকাধিন জমি নামে মাত্র ক্রয় করে ও পাশে থাকা সরকারের খাস জমি থেকে অবৈধ ভাবে মাটি কাটতে থাকেন। এ সব বিষয়নিয়ে ভুক্তভোগীরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। সরকারের খাস খতিয়ানের জায়গা থেকে মাটি কাটার কারণে স্থানীয়রা অপরাধিদের বিরুদ্ধের নিয়মিত মামলা করারও দাবি জানিয়েছেন
এলাকাবাসী।
আরও জানা গেছে, বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাকন মেম্বারকে ডেকে মৌখিকভাবে হুঁশিয়ারি করেন এ বিষয়ে। মাটি না কাটার অঙ্গীকারও করেন কাকন মেম্বার। উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে আবারও শুরু করেন মাটি বিক্রির ব্যবসা। এদিন বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল দুপুরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন।
এসময় ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে এস্কেভেটর ড্রাইভার সাব্বির হোসেন (১৮) ও তার পিতা শাহাব উদ্দীনকে (৩৮)কে দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। আদালত এ সময় দুটি ড্রামট্রাক, দুটি এস্কেভেটর ও একটি ট্রাক্টরসহ একটি ট্রলি জব্দ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জরিমানা
পরিশোধের জন্য বিকেল চারটা পর্যন্ত সময় বেধে দেন।
বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার জানিয়েছেন, মৌখিকভাবে নিষেধ সত্বেও কাকন মেম্বার মাটিকাটা অব্যহত রাখেন। এদিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে ভ্রম্যমান আদলত বসানো হয়। স্পটে কাকন
মেম্বারকে পাওয়া যায়নি। তবে এ কাজে সহায়তাকারী হিসেবে অন্য দুই জনকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। দুইজনই বাঘারপাড়া থানায় আটক রয়েছে। যেহেতু টাকা পরিশোধ করেননি। যে কারণে জেল বলবৎ রয়েছে। এছাড়া জব্দকৃত মালামাল থানায় জব্দ রাখা হয়েছে।