যশোর প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোর শহরের শংকরপুরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মনিরুল ইসলাম নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (১ মার্চ) যশোর সদর আমলি আদালতের বিচারক সাকিব আহম্মেদ ইমন তার জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ডিবি সূত্র জানায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুরের মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার আব্দুল খালেকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক অলক কুমার দে জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মনিরুল আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহত আলমগীর হোসেনের জামাই পরশ। শ্বশুরকে হত্যার জন্য তিনি ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন হামলাকারীদের পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল।
স্বীকারোক্তিতে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন বিকেলে শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুকের হাতে এক লাখ টাকা ও একটি পিস্তল তুলে দেন পরশ। হত্যার পর বাকি চার লাখ টাকা শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার নিয়ে দেওয়ার কথা ছিল এবং অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা পরে পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, হত্যামিশনে ১০ থেকে ১২ জন অংশ নেয়। তারা তিনটি মোটরসাইকেলে ভাগ হয়ে অভিযানে নামে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আলমগীর হোসেন শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা তাকে অনুসরণ করে। পরে সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের কাছে পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে শুটার মিশুক তাকে গুলি করে।
হত্যাকাণ্ডের পর দুই মোটরসাইকেলে থাকা চারজন দ্রুত গোলপাতা মসজিদের দিকে পালিয়ে যায় এবং অপর মোটরসাইকেলটি বটতলার দিকে ঘুরে যায়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহতের জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেজপাড়া এলাকার ত্রিদিব ওরফে মিশুককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মিশুকের স্বীকারোক্তিতে রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার শাহীন কাজীকে আটক করা হয়।
শাহীন কাজীর জবানবন্দিতে মনিরুল ইসলামের নাম উঠে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত আলমগীর হোসেন যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কের বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনার পর তার স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানা-তে জামাই পরশ, সাগরসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটে লেখা ছিল— ‘হাদি ইজ নট নেম, হাদি মিনস বাংলাদেশ’।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।