কলাপাড়া প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় প্রতিবেশীর গবাদি পশুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে একটি ছাগলসহ থানায় হাজির হয়েছেন এক কৃষক। রবিবার দুপুরে কোলজুড়ে ছাগল নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে থানায় আসার এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে বেশ কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী কৃষক আলাউদ্দিন হাওলাদারের অভিযোগ, প্রতিবেশী রফিক হাওলাদারের পালিত গবাদি পশু দীর্ঘদিন ধরে তার রবিশস্য ও তরমুজ ক্ষেত নষ্ট করছে। বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছেন।
উপজেলার টিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি বেশ কিছু জমিতে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে রবিশস্যের আবাদ করেছেন। কিন্তু প্রতিবেশীর গরু, ভেড়া ও ছাগলের অবাধ বিচরণে তার স্বপ্ন এখন ধূলিসাৎ হওয়ার পথে।
তার দাবি, শনিবার দুপুরেও একপাল ভেড়া ও ছাগল তার তরমুজ ক্ষেতে ঢুকে প্রায় ৩০ শতক জমির ফসল নষ্ট করেছে। গত এক মাসে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। আলাউদ্দিন বলেন, “অত্যাচার সইতে না পেরে বাধ্য হয়েই ছাগল নিয়ে থানায় এসেছি।”
রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে একটি ছাগল কোলে নিয়ে কলাপাড়া থানায় উপস্থিত হন আলাউদ্দিন। তিনি প্রতিবেশী রফিক হাওলাদারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং ছাগলটি পুলিশের হাতে তুলে দিতে চান।
ভুক্তভোগী এই কৃষকের দাবি, এর আগেও বারবার অভিযোগ করা হলেও রফিক হাওলাদার বিষয়টি আমলে নেননি। এমনকি শনিবার ছাগলটি আটকে রাখার পরও প্রতিবেশী কোনো খোঁজ নিতে আসেননি।
থানায় ছাগল নিয়ে আসার ঘটনায় কিছুটা বিপাকে পড়ে কলাপাড়া থানা পুলিশ। থানায় গবাদি পশু রাখার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
কলাপাড়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) রাসেল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত রফিক হাওলাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “থানায় তো পশু রাখার জায়গা নেই। তাই স্থানীয় গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ছাগলটি আপাতত আলাউদ্দিনের জিম্মাতেই রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”