1. bdtelegraph24@gmail.com : বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক :
  2. suma59630@gmail.com : ফাতেমা আকতার তোয়া : ফাতেমা আকতার তোয়া
  3. limonhosen529@gmail.com : Limon Hossain : Limon Hossain
  4. mirzagonj@bdtelegraph24.com : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
  5. tarim7866@gmail.com : তারিম আহমেদ : তারিম আহমেদ
  6. wasifur716@gmail.com : Wasifur Rahaman : Wasifur Rahaman
পীরগঞ্জে সাংবাদিকতার আড়ালে প্রভাব ও প্রটেকশন মানির অদৃশ্য জাল!! - bdtelegraph24.com
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লোহাগাড়ার ৯ ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী যাচাই-বাছাই কমিটির মতবিনিময় নেত্রকোণায় আবাসিক বাসায় ভারতীয় চোরাই পণ্যের গুদাম, চক্রের হোতা আটক দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল: ডিএসসিসি প্রশাসক কালিয়াকৈরে কলোনিতে অগ্নিকাণ্ড: ৮ কক্ষের মালামাল পুড়ে ছাই কুষ্টিয়ায় লালন মাজার এলাকায় হামলার শিকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভূমিহীনদের চাকরি না দেওয়ার বিধান কোথায়, প্রশ্ন শিক্ষামন্ত্রীর চাকরিপ্রার্থীর ভেরিফিকেশনে বাধা: জমিহীন তরুণকে জমি দিলেন হিন্দু প্রতিবেশী ডিমের কুসুম খেলে কি হার্টের ঝুঁকি বাড়ে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ পাকিস্তানি নারী এজেন্টের সঙ্গে তথ্য পাচার: ভারতীয় নৌবাহিনীর নাবিক গ্রেপ্তার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা

পীরগঞ্জে সাংবাদিকতার আড়ালে প্রভাব ও প্রটেকশন মানির অদৃশ্য জাল!!

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ৮৯ জন খবরটি পড়েছেন

৩৬ জুলাই’-পরবর্তী বাস্তবতা

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন
Telegraph Bangladesh WHATSAPP Channel

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন

দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একটি নীরব কিন্তু উদ্বেগজনক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘৩৬ জুলাই’-এর পর রাতারাতি কিছু সাংবাদিকের জীবনযাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও সংশয়ের জন্ম দিচ্ছে। এই পরিবর্তনকে অনেকে আখ্যা দিচ্ছেন “আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া” হিসেবে। বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত উন্নতির নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে একটি জটিল ও সংবেদনশীল বাস্তবতা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উঠে আসছে তথাকথিত ‘প্রটেকশন মানি’।

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা যার মূল ভিত্তি সত্য অনুসন্ধান, জনস্বার্থ রক্ষা এবং ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু যখন এই পেশার কিছু ব্যক্তি নিজেদের প্রভাবকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতে শুরু করেন, তখন পুরো পেশাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। পীরগঞ্জে এমন অভিযোগ উঠছে যে, কিছু ব্যক্তি সংবাদ সংগ্রহের আড়ালে ব্যবসায়ী, ঠিকাদার কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ‘সুরক্ষা’ দেওয়ার নামে অর্থ আদায় করছেন। এই অর্থের বিনিময়ে তারা হয়তো কোনো অনিয়ম প্রকাশ না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, অথবা বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করছেন।

এই প্রবণতা কেন তৈরি হচ্ছে—তা বিশ্লেষণ করা জরুরি। প্রথমত, স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার পেশাগত কাঠামো দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রেই কোনো প্রশিক্ষণ, নীতিমালা বা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। ফলে জবাবদিহিতা কমে যাচ্ছে এবং অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা একটি বড় কারণ। অনেকেই নিয়মিত বেতন বা স্থায়ী আয় না পাওয়ায় বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন, যা কখনো কখনো অনৈতিক চর্চার দিকে ঠেলে দেয়।
তৃতীয়ত, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি। যদি স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো কার্যকরভাবে তদারকি করত, তাহলে এই ধরনের অভিযোগ এতটা বিস্তৃত আকার ধারণ করত না। বরং একটি সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হতো, যেখানে প্রকৃত সাংবাদিকরা সম্মান ও নিরাপত্তা পেতেন।

এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। কারণ, তারা নির্ভরযোগ্য তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যখন সংবাদ বিকৃত হয় বা ইচ্ছাকৃতভাবে চেপে রাখা হয়, তখন সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং দুর্নীতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, যারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন।
তবে পুরো চিত্রটিকে একপাক্ষিকভাবে দেখা উচিত নয়। পীরগঞ্জে এখনো অনেক সৎ ও পেশাদার সাংবাদিক রয়েছেন, যারা প্রতিকূলতার মধ্যেও নীতির প্রশ্নে আপস করেন না। তাদের কাজই প্রমাণ করে—সাংবাদিকতা এখনো সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

সমাধানের পথ কী? প্রথমত, সাংবাদিকদের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রতিনিধিদের ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। তৃতীয়ত, প্রশাসনকে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজকেও সোচ্চার হতে হবে যাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।

পীরগঞ্জের এই পরিবর্তন কেবল একটি উপজেলার সমস্যা নয়; এটি বৃহত্তর গণমাধ্যম ব্যবস্থার একটি প্রতিফলন। তাই এখনই সময় আত্মসমালোচনার—কারণ সাংবাদিকতা যদি আস্থার সংকটে পড়ে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো সমাজই।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2025
Theme Customized By BreakingNews

টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল

Close Welcome Bar