ফরিদ আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। বছরের অন্য সময় তেমন কাজ না থাকলেও ফাল্গুন থেকে বৈশাখ—এই তিন মাস যেন তাদের প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর—সব বয়সী কারিগর এখন মাটির শিল্প তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
নববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বসা বর্ষবরণ মেলাকে কেন্দ্র করে বেড়েছে মাটির তৈরি পণ্যের চাহিদা। খেলনা, কলস, হাঁড়ি, মটকা, বাসন, ডালা ও পুতুলসহ নানা ধরনের মাটির জিনিসপত্র তৈরিতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন কারিগররা। ইতোমধ্যে অধিকাংশ পণ্য পোড়ানো শেষ হয়েছে, এখন চলছে রঙের কাজ।
তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও হতাশা পিছু ছাড়ছে না মৃৎশিল্পীদের। কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা। মৃৎশিল্পী মহেন্দ্র পাল বলেন, “আগে মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা অনেক বেশি ছিল। এখন অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের পণ্যের কারণে সেই চাহিদা কমে গেছে। তার ওপর সব উপকরণের দাম বেড়েছে, ফলে লাভ খুবই কম।”
স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা জানান, সারা বছর আয় কম হলেও বৈশাখি মেলায় বিক্রির মাধ্যমে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ মেলাগুলোতে এখনো মাটির তৈজসপত্র ও শিশুদের খেলনার কদর রয়েছে।
একসময় নবীনগর উপজেলায় কয়েকশত মৃৎশিল্পী থাকলেও কালের বিবর্তনে বর্তমানে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটি এখন বিলুপ্তির পথে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবুও বংশপরম্পরা ও জীবিকার তাগিদে অনেকেই এখনও এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন।
জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব মাটির পণ্য বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত কারিগরি দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে প্রায় তিন বছর আগে নবীনগর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও এর দৃশ্যমান প্রভাব তেমন একটা দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি উদ্যোগে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা গেলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
মৃৎশিল্পীরা সরকারের কাছে সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বাজারজাতকরণে সহায়তার দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে এই প্রাচীন শিল্প নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।