ফরিদ আহমেদ, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আধুনিক সোলার সেচ ব্যবস্থা ও কৃষি বিভাগের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের অনাবাদি জমিতে আউশ ধান চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চলতি মৌসুমে পৌরসভার দোলাবাড়ী, সাতমোড়া, রতনপুর ও সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।
তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফ্রিপ (FREAP) প্রকল্পের অর্থায়নে স্থাপিত সোলার সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে বারিড পাইপলাইনে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার প্রদান করায় একসময়ের অনাবাদি জমি এখন সবুজে ভরে উঠেছে। সরেজমিনে দোলাবাড়ী গ্রামে দেখা যায়, মাঠজুড়ে ব্রিধান-৯৮ ও ব্রিধান-৪৮ জাতের আউশ ধানের সোনালি শীষ দুলছে।
দোলাবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, “সরকারের সোলার সেচ স্কিমের কারণে এখন অল্প খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে আউশ চাষ করেছি। ফসলের অবস্থা খুব ভালো, আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।”
সাতমোড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ জানান, গত মৌসুমে বিনাধান-১৯-এর প্রদর্শনী সফল হওয়ায় কৃষকরা বীজ সংরক্ষণে আগ্রহী হন। এর ফলে চুওরিয়া গ্রামে নতুন করে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে আউশ আবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে। চুওরিয়া গ্রামের কৃষক মন্নান মিয়া বলেন, “গত বছরের ভালো ফলনের কারণে সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করেছি। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত থাকায় এবার ফলনের সম্ভাবনা অনেক ভালো।”
পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, “উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশনায় কৃষকদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আধুনিক সোলার সেচ প্রযুক্তির কারণে আগামীতে আরও অনাবাদি জমি আউশ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করে সোলার সেচ স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো দোলাবাড়ীতে ৭৫ বিঘা জমি একসঙ্গে আউশ আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। বারিড পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচের পানি সরবরাহ করায় পানির অপচয় কমেছে এবং কৃষকদের সেচ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো বোরো মৌসুম শেষে বন্যামুক্ত অনাবাদি জমিগুলোকে স্বল্পমেয়াদি আউশ ধানের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি করা।”