সাকিব আহসান, প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)
শুক্রবার (৭ আগস্ট), দুপুর ২টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে চলা ভ্যাপসা গরম ও প্রখর রোদে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে এবং খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
পৌর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “আগে গরম পড়ত, কিন্তু এখনকার মতো এত অসহনীয় ছিল না। দুপুরে বাইরে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে।”
উপজেলার সাগুনী গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, “ধান ও সবজির জমিতে কাজ করতে গিয়ে বারবার বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে, এতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।”
ব্যবসায়ী নাসরিন আক্তার বলেন, “দুপুরের পর বাজারে ক্রেতা কমে যায়। প্রচণ্ড গরমের কারণে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে চায় না। এতে ছোট ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।”
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পর্যাপ্ত পানি পান ও ওরস্যালাইন গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া দুপুরে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তাপপ্রবাহ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। উত্তরাঞ্চলে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, জলাভূমি ভরাট এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ স্থানীয় পর্যায়ে তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলছে। পরিবেশকর্মীদের দাবি, শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, বিদ্যমান বনাঞ্চল ও জলাভূমি সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
পীরগঞ্জের পরিবেশকর্মী মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “আমরা যদি এখনই পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিই, তাহলে আগামী কয়েক বছরে গ্রীষ্মকাল আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, বিদ্যমান বনাঞ্চল ও জলাভূমিও সংরক্ষণ করতে হবে।”