আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো
শনিবার (৮ আগস্ট), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নয় নির্বাহী প্রকৌশলীকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৩ আগস্ট দুদকের পক্ষ থেকে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এই কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে জানানো হয়।
দুদকের তলব করা কর্মকর্তারা হলেন—নাজমুল হুদা, এনামুল কাদির, তোফাজ্জল আলী সরকার, এটিএম রফিকুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, রেজাউল করিম, মনিরুজ্জামান, রুবিনা খাতুন ও সানজিদা খানম মলি। চিঠিতে নাজমুল হুদা, এনামুল কাদির, তোফাজ্জল আলী সরকার ও এটিএম রফিকুল ইসলামকে ১২ আগস্ট এবং বাকি পাঁচজনকে ১৩ আগস্ট দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।
বিএমডিএ সূত্রে জানা যায়, তলব করা কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে সানজিদা খানম মলিসহ তিনজন কর্মকর্তাকে সহকারী প্রকৌশলী থেকে চলতি দায়িত্বে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়।
দুদকের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কাদির। তবে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, সানজিদা খানম মলির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ডা. আবুল কাশেম বলেন, “তাঁদের মুখ থেকেই বিষয়টি শুনেছি। তাঁরা দুদকের চিঠি পেয়েছেন এবং ১২ ও ১৩ আগস্ট সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি, অভিযোগের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে আমার জানা নেই।”
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুসন্ধান চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণের পর অভিযোগের সত্যতা ও তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।