আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো
রবিবার (৯ আগস্ট ২০২৬), দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় আট বছর ধরে পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসিবুল ইসলামকে (৪০) অভিনব কৌশলে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা তিনি মালয়েশিয়ায় আছেন বলে দাবি করলেও, পুলিশ ক্রেতা সেজে অনলাইনে যোগাযোগ করে ঢাকার মিরপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হাসিবুল বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সূর্যপাড়া গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগে রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোরে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত চারটি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হাসিবুল ২০১৯ সাল থেকে পলাতক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, সাজা হওয়ার পর বাগমারা থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসে। পুলিশ তাঁকে ধরতে বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে ‘রংধনু শপ’ নামে একটি অনলাইন কসমেটিকস বিক্রির সাইটের সন্ধান পায় তারা।
পুলিশ জানতে পারে, ওই অনলাইন ব্যবসার পরিচালক হাসিবুল। এরপর পুলিশ ক্রেতা সেজে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে অবস্থান নিশ্চিত করে। শুক্রবার রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাগমারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শিহাব উদ্দীন বলেন, “গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করি। একপর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া যায় হাসিবুল ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
হাসিবুলের এক স্বজন জানান, তাঁরা জানতেন হাসিবুল মালয়েশিয়ায় থাকেন এবং সেখান থেকে বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। ঢাকায় বসে তিনি অনলাইন ব্যবসা করছেন—এই বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। তবে পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করতে পুলিশের এমন তৎপরতা প্রশংসনীয়।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা হাসিবুলকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কৌশলী অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আকতার বলেন, “আমরা অনেক কষ্ট করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হাসিবুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। সে প্রায় আট বছর ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অন্যান্য থানায় থাকা মামলাগুলোতে আদালত তাঁকে জেলহাজতে পাঠাবে।”