মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
রবিবার (৯ আগস্ট ২০২৬), সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ বটতলী বাজার ও স্টেশন এলাকায় ভাসমান দোকান থেকে ‘শহর উন্নয়নের টাকা’ নামে রশিদ ছাড়াই অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একই ব্যক্তি কোনো কোনো দোকান থেকে রশিদ দিয়ে টাকা নিলেও অনেকের কাছ থেকে রশিদ ছাড়াই অর্থ আদায় করছেন। এ ঘটনায় আদায়কৃত অর্থের গন্তব্য ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমীর হোসেন জানান, রাতে বটতলী বাজারে এক ব্যক্তি কয়েকটি রশিদ বই নিয়ে টাকা তুলছিলেন। তিনি পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, ওই ব্যক্তি অনেকের কাছ থেকে টাকা নিলেও তাদের কোনো রশিদ দিচ্ছেন না এবং টাকা সরাসরি নিজের পকেটে রাখছেন। অথচ একই সময়ে অন্য কিছু দোকান থেকে তিনি রশিদ দিয়ে টাকা সংগ্রহ করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোনো বৈধ ইজারা বা টোল আদায়ের ক্ষেত্রে যথাযথ রশিদ থাকার কথা থাকলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না। ‘শহর উন্নয়নের টাকা’ নামে এই অর্থ আদায়ের কোনো অনুমোদন আছে কি না, বা আদায়ের নির্ধারিত হার কত—তা নিয়ে কোনো তথ্যই প্রকাশ করা হয়নি। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বটতলী বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “শহর উন্নয়নের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু রশিদ দিলে এক রকম আর না দিলে অন্য রকম কেন হবে? রশিদ ছাড়া নেওয়া টাকা কোথায় যাচ্ছে, কার পকেটে যাচ্ছে তা আমরা জানি না।”
বাজার এলাকায় অস্থায়ী দোকানের কারণে সৃষ্ট যানজট নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, দোকান বসানোর সুযোগ দিয়ে টাকা আদায় করা হলেও সড়ক ও জনচলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এতে বাস, সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
সচেতন মহলের দাবি, বটতলী বাজারে কারা অর্থ আদায় করছে এবং কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তা হচ্ছে, তা দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। রশিদবিহীন অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।