নজরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট, ২০২৬) রাত ১০টা ২১ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরে জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে তিন সাব-রেজিস্টারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চাঁচড়া রাজবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আলমগীর সিদ্দিক বাদী হয়ে যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন। বিচারক সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন—চাঁচড়া রাজবাড়ী এলাকার নূর ইসলাম মোল্যা, ডাক্তার মোসলেম উদ্দিন, দলিল লেখক আতাউর রহমান, সাবেক সাব-রেজিস্টার কাজী রুহুল আমিন, আবুল বাশার, শাহাজান আলী, দলিল সনাক্তকারী মো. মতিয়ার রহমান, হাদিউজ্জামান এবং মাহিদিয়া এলাকার রফিকুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার ৭৭ নম্বর চাঁচড়া মৌজায় ১ একর ৩৯ দশমিক ২৫ শতক জমি ওয়ারিশ সূত্রে বাদীসহ ১৯ জন শরিকের নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। ২০১১ সালের ৩০ জুন ৭৮৭০/১১ নম্বর ভাগ-বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে শরিকরা জমি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন এবং নামজারি সম্পন্ন করে ভোগদখল করে আসছিলেন।
পরবর্তীতে সরকারি খাজনা দিতে গিয়ে বাদী জানতে পারেন, শরিকদের অজ্ঞাতসারে ২০১২ সালের ১১ মার্চ বিভিন্ন নম্বরের ‘ভ্রম সংশোধন’ দলিল তৈরি করা হয়েছে। এসব দলিলে প্রকৃত মালিকদের নাম-ঠিকানা ব্যবহার ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এছাড়া ২০১১ সালের ভাগ-বণ্টননামা দলিলের দাগ নম্বর পরিবর্তন এবং দাতা-গ্রহীতার তথ্যে ভিন্নতা দেখিয়ে এসব দলিল তৈরি করা হয়।
আলমগীর সিদ্দিক বলেন, “জাল দলিল তৈরি করে জমি হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমি আদালতে মামলা করেছি।”
আদালত সূত্র জানায়, জাল দলিল ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে জমি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।