নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার (১৫ আগস্ট), রাত ৯টা ৪৭ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এখন থেকে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা কোনো প্রকার ভোগান্তি বা মধ্যস্বত্বভোগীর সহায়তা ছাড়াই অবসরকালীন সুবিধার টাকা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাবেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ৭০ হাজার ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘ চার বছর পর তাদের প্রাপ্য ফান্ডের একটি অংশ পেয়েছেন। ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ থেকে এই অর্থ সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষকদের হয়রানির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষক সমাজ, যারা নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো কোটি শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন, তাদেরকেই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় বা অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়; বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা ও হীনতাই প্রকাশ পায়।”
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিগত সরকার ব্যাংক-বীমাসহ প্রতিটি সেক্টরের মতো শিক্ষকদের এই দুটি তহবিল থেকেও লুটপাট চালিয়েছিল। জাল ইনডেক্স তৈরি ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করার মাধ্যমে তহবিল দুটিকে দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল, যার ফলে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকরা অর্থ পাচ্ছিলেন না। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশেষ ব্যবস্থায় এই অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে।
অনুষ্ঠানে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড তাঁর দূরদর্শী উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি শিক্ষকদের সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।