নিউজ ডেস্ক
১৬ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৪:৩৩ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে খাবার ও পানির অভাবে অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। ইঞ্জিন বিকল হয়ে টানা নয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূল থেকে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, তীব্র খাদ্য ও পানিসংকটে তাদের চোখের সামনেই সহযাত্রীদের মৃত্যু হয় এবং মরদেহ পচে যাওয়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। এর মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। যাত্রা শুরুর পরপরই ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকার খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছালে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে এটি সাগরে ভাসতে থাকে।
দীর্ঘ নয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায়। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল করিম বলেন, “আমরা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলাম। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আমাদের নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। এ সময় আমাদের উদ্ধার করতে দালালের লোকজন কিংবা অন্য কোনো সংস্থা এগিয়ে আসেনি। খাবার ও পানির অভাবে চোখের সামনেই নয়জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। পরে আরও দুজন মারা যান।”
দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমরা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমাদের বাঁচান, আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই।
মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। স্থানীয় পুলিশ মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে। এদের মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং অন্যদের পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
দূতাবাস আরও জানায়, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।