ফরিদ আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
রবিবার (১৬ আগস্ট), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ৯ নম্বর শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম আর মজিবের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়েছেন নয় ইউপি সদস্য। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় আয়োজিত সমঝোতা বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদের আয়-ব্যয় ও কার্যক্রম পর্যালোচনার পর তারা চেয়ারম্যানের প্রতি পুনরায় আস্থা প্রকাশ করেন।
অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহার চেয়ে ইউপি সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনের অনুলিপি চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় সরকারের উপপরিচালকের (ডিডিএলজি) কাছে পাঠানো হয়েছে।
গত ১৭ জুন ও ২৬ জুন আর্থিক অনিয়ম ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে নয়জন সাধারণ ও সংরক্ষিত ইউপি সদস্য চেয়ারম্যান এম আর মজিবের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও এলাকার মুরুব্বিদের উদ্যোগে বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনা শুরু হয়।
চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে আয়োজিত বিশেষ সমঝোতা বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এতে ভূমি হস্তান্তর করের ১ শতাংশের অর্থসহ পরিষদের বিভিন্ন আয় দিয়ে বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের হিসাব খতিয়ে দেখা হয়।
দীর্ঘ আলোচনার পর চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্বের অবসান হয়েছে বলে সদস্যরা জানান। তারা উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক সমস্যাগুলোর শান্তিপূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধান হয়েছে।
ইউপি সদস্যরা বলেন, ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সাধারণ মানুষকে নির্বিঘ্নে নাগরিক সেবা দেওয়ার স্বার্থেই অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে চেয়ারম্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহারের আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের লিটন মিয়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সোহেল মিয়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আহসান হাবীব, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হুমায়ুন কবির শাহীন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ বশির, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল ইসলাম, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাসুদ মিয়া এবং সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রোকসানা পারভীন।