নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬), বেলা ১১টা ৪২ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে নানা আলোচনা চললেও আপাতত সফরটি হচ্ছে না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা ও অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর প্রেক্ষাপটে এই সফর স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহ দেখালেও বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান এখনো অধরা। প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণের পরও সফরটি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, মৌলিক অমীমাংসিত বিষয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি না হওয়ায় এই মুহূর্তে উচ্চপর্যায়ের সফর প্রত্যাশিত ফলের বদলে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও দণ্ডিত ব্যক্তির ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া ঢাকার জন্য অস্বস্তিকর। বাংলাদেশ এ বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানিয়ে প্রত্যর্পণের অনুরোধ করেছে। এ প্রশ্নে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরকে স্বাভাবিক দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যা মামলার অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের প্রশ্ন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠিয়েছে এবং ভারতের জবাবের অপেক্ষায় আছে। এ ধরনের বিষয় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনগত স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
সীমান্তে প্রাণহানি, ভিসা জটিলতা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও পানিবণ্টনের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিনের। এসব প্রশ্নে জনগণের প্রবল প্রত্যাশা রয়েছে। ফলে শুধু শীর্ষ পর্যায়ের সফর আয়োজন করলেই সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না। বরং ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দৃশ্যমান অগ্রগতি তৈরি করাই জরুরি।
সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই বাংলাদেশের নীতির মূল ভিত্তি। তাই প্রধানমন্ত্রীর সফর কবে হবে, তার চেয়ে সফরটি যেন অর্থবহ হয়—সে জন্য কী কী অগ্রগতি প্রয়োজন, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়। প্রত্যর্পণ, সীমান্ত ও বাণিজ্যসহ অমীমাংসিত ইস্যুতে বাস্তব অগ্রগতি অর্জন করা গেলেই কেবল প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।