সাদ্দাম উদ্দিন রাজ, নরসিংদী প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। দিবসটি উপলক্ষে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, “দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।”
১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ১০৯, আগা সাদেক রোডের মোবারক লজে জন্মগ্রহণ করেন মতিউর রহমান। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে, যা বর্তমানে মতিউরনগর নামে পরিচিত। নয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ। তাঁর বাবা মৌলভী আবদুস সামাদ ও মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন।
১৯৬১ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন মতিউর রহমান। ১৯৬৩ সালে রিসালপুর পিএএফ কলেজ থেকে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।
বিমানটি কম উচ্চতায় উড্ডয়নের ফলে রাশেদ মিনহাজসহ বিমানটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে ৩৫ মাইল দূরে থাট্টা এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। মতিউর রহমানের সঙ্গে প্যারাসুট না থাকায় তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
কর্মস্থলে ফিরে জঙ্গি বিমান দখল করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাকে তখন বিমানের সেফটি অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিমান দখলের জন্য তিনি শিক্ষানবিশ পাইলট রাশেদ মিনহাজের উড্ডয়নের দিনটি বেছে নেন। পাকিস্তানি জঙ্গি বিমানের বাধার মুখেও তিনি বিমান নিয়ে ভারতের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।