কামরুল ইসলাম / রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট), সন্ধ্যা ৭টা ৩২ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ধনিয়া চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে পরিচর্যা পর্যন্ত উৎপাদন খরচ ও শ্রমের তুলনায় বাজারে ধনিয়ার কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ তারা। কৃষকদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধনিয়া চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। এছাড়া নিয়মিত পরিচর্যা না করলে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণে ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
একজন স্থানীয় কৃষক জানান, প্রতিদিন একটি জমি থেকে ২৫ থেকে ৩০ কেজি ধনিয়া সংগ্রহ করে পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন। প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি করলে দৈনিক আয় হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু বীজ, সার ও শ্রমিকের মজুরি বাদ দিলে হাতে খুব সামান্যই লাভ থাকে।
কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে কম দামে ধনিয়া কিনে ব্যবসায়ীরা খুচরা বাজারে তা ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। এতে উৎপাদনের মূল ঝুঁকি ও শ্রম বহন করেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।
কৃষকরা বলেন, উৎপাদন খরচ কমানো এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কাপ্তাইয়ে ধনিয়া চাষ আরও লাভজনক হতো। তাদের দাবি, স্থানীয় বাজারে কার্যকর নজরদারি, সরাসরি বাজারজাতের ব্যবস্থা এবং কৃষি উপকরণের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
কৃষকদের প্রত্যাশা, বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নতি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমলে তারা শ্রমের যথাযথ মূল্য পাবেন। এতে কাপ্তাইয়ে ধনিয়ার উৎপাদন আরও বাড়বে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।