নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট), রাত ৯টা ৪০ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে হাজারো রোহিঙ্গার অংশগ্রহণে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ফুটবল মাঠে ‘ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা’ (ইউসিআর)-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
সংকটের ৯ বছরপূর্তি ও ‘জেনোসাইড ডে’ উপলক্ষে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে এই বিশেষ সমাবেশ পালন করেন রোহিঙ্গারা। সকাল থেকেই বিভিন্ন ব্লক থেকে নারী, পুরুষ ও শিশুরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। এ সময় তাদের কণ্ঠে ছিল ‘আর নয় শরণার্থী জীবন, নিজ দেশে ফিরতে চাই’ স্লোগান।
সমাবেশের একপর্যায়ে ১০ মিনিট ধরে রোহিঙ্গা ভাষায় ‘শেষ হতা এক্কান, ফিরতে চাই আরকান’ অর্থাৎ ‘আমাদের শেষ কথা একটাই, আরকানে ফিরতে চাই’ স্লোগান দিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা সংকটের সফলভাবে ৯ বছর পূর্ণ হলো আজ। এই দীর্ঘ সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে টেকসই প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি।
রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রফিক বলেন, “আমরা বিশ্বের কাছে ১০ মিনিট সময় চাই, ৯টা বছর পার করেছি। এ দেশ আমাদের নয়, আমরা আমাদের দেশে ফিরতে চাই। আরকান আমাদের, আমরা আরকানের—এর চেয়ে আর বড় কোনো সত্য নেই। এই বিষয়টি মানবিক বিশ্বকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।”
ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ বলেন, “বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে যে মানবিক সহায়তা করেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই। প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ। শুধু সীমান্ত পার করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো নয়, প্রত্যাবাসনের পর নিরাপত্তা, অধিকার, নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা ও জীবিকার নিশ্চয়তাও দিতে হবে।”
সমাবেশে গণহত্যায় নিহতদের স্মরণ, রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানানো হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালের সহিংসতার ক্ষত এখনো রোহিঙ্গাদের মনে রয়ে গেছে। নয় বছর পার হলেও স্বজন হারানোর বেদনা ও নিজ দেশে ফিরতে না পারার হতাশা এখনো মুছে যায়নি।
ইউসিআর নেতা মাস্টার শোয়েব বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে আমরা ভয় বা অনিশ্চয়তা ছাড়াই ফিরতে পারি।”
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও এই সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তায় ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত এপিবিএন তৎপর রয়েছে।