নজরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ২০২৬, রাত ৮:৪৫ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
খুলনার পাইকগাছায় রান্নার পর গরুর মাংসের রং উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় কোনো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা পচনের প্রমাণ মেলেনি। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মাংস দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ ও রান্নার উচ্চ তাপের প্রভাবে রঞ্জক পদার্থের পরিবর্তনের বিষয়টিই সবুজ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
গত ২২ জুলাই পাইকগাছা বাজারে মাংস বিক্রেতা ইসমাইলের কাছ থেকে কেনা চার কেজি গরুর মাংস রান্নার সময় সবুজ হয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সম্প্রতি পাওয়া ল্যাব প্রতিবেদনে মাংসের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে থাকা শঙ্কা দূর হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় মাংসের নমুনায় কোনো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা সিউডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এছাড়া নমুনায় পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাব ছিল না। ফলে মাংসের রং পরিবর্তনের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াজনিত পচন বা ক্ষতিকারক জীবাণুর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্পেক্ট্রোফোটোমেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাংস দীর্ঘ সময় ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পরে রান্নার সময় উচ্চ তাপের সংস্পর্শে আসায় মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তর কিংবা গাঠনিক পরিবর্তন ঘটেছে। এর ফলেই মাংসের রং সবুজ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, জনমনে সৃষ্টি হওয়া আতঙ্ক দূর করতে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করতে পরীক্ষার প্রতিবেদনের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে পাইকগাছায় আলোড়ন তোলা এই ঘটনার রহস্যের অবসান ঘটল।
ঘটনার সময় পাইকগাছার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী মাংসের নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তার নির্দেশে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয় থেকে কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।