নিউজ ডেস্ক
শুক্রবার (২ অক্টোবর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট নিয়ে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবার প্রায় ৪০০ স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের প্রতিবাদে গত মাসে প্যারিসে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালে বেশ কয়েকটি স্থানে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা অন্তত দুটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং মার্সেই শহরে শিক্ষকদের গায়ে ভুলবশত পেট্রল ছিটকে পড়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া স্ত্রাসবুর্গে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও তুলুজে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে তরুণদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্রান্স-২ টেলিভিশনকে জানান, শুক্রবার ৪০০টির কিছু বেশি স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন আরটিএল রেডিওকে বলেন, বিক্ষোভে একটি সক্রিয় ও সহিংস সংখ্যালঘু গোষ্ঠী অংশ নিচ্ছে। তাদের সবাই শিক্ষার্থী কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তিনি আরও জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে প্রায় ২ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
আমরা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার পর্যায়ে চলে গেছি। মানুষ যখন বাসে হামলা করে এবং স্কুলে আগুন ধরিয়ে দেয়, তখন সেটি আর কেবল বিক্ষোভের বিষয় থাকে না।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী কট্টর বামপন্থি রাজনীতিকদের একটি অংশ এই আন্দোলন উসকে দিচ্ছে। এর মধ্যে লা ফ্রান্স ইনসুমিজ (এলএফআই)-এর সদস্যরা রয়েছেন বলে দাবি করা হয়। তবে এলএফআইয়ের আইনপ্রণেতা লুই বোয়ার্ড ফরাসি গণমাধ্যমে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে ফ্রান্সের প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লিয়েজের সব স্কুল শুক্রবার বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।