নিউজ ডেস্ক
২৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা ৭ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে দাবি করেছেন। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। মানিক পশারীর মৃত্যুতে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের চেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পোষ্য ও সুবিধাভোগী দালাল কুখ্যাত মানিক পশারী শনিবার মারা যান। মৃত্যুর পর তাকে পিরোজপুরে আনা হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানের চেষ্টা করা হয়। জনগণ বিষয়টি জানতে পেরে তাকে গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেয় এবং তিনি যে মুক্তিযোদ্ধা নন, তা প্রশাসনকে অবহিত করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনি গেজেটপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। এরপরও জনগণ একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা প্রদান করে। আমরা জনগণকে শান্ত করেছি এবং ধৈর্য ধারণ করতে বলেছি। মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে আমাদের কোনো বাধা ছিল না, আপত্তি ছিল একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান নিয়ে।’
মাসুদ সাঈদী দাবি করেন, মানিক পশারী ট্রাইব্যুনালে জেরার সময় স্বীকার করেছিলেন যে তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেননি। তৎকালীন সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়ালের ডিও লেটারের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন মাসুদ সাঈদী।
তিনি বলেন, ‘মানিক পশারীর মতো একজন স্বঘোষিত অ-মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রমাণিত মিথ্যাবাদীকে কারা গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা বানাল? কোন কুচক্রী মহল তাকে রাষ্ট্রের করের টাকায় বছরের পর বছর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার সুযোগ করে দিল? মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাকে অবৈধভাবে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার পেছনে যে সব কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত ছিল, তাদের অবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে।’
মাসুদ সাঈদী মানিক পশারীর নাম দ্রুত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাতিল এবং তাকে দেওয়া সব রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতা চিরতরে বন্ধের দাবি জানান। এছাড়া, ভুয়া ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যয়ন ও ডিও লেটার দেওয়ার অপরাধে সাবেক সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।