সংবাদদাতা, ডামুড্যা
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর), দুপুর ১২টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় মাদক সেবন ও কারবারের প্রতিবাদ করায় লামিয়া বৃষ্টি নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী রবিউল ছৈয়ালের বিরুদ্ধে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী রবিউলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে লামিয়া ও রবিউলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রবিউল মাদক সেবন ও অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে মাদক ছাড়তে না পারলে তালাকের হুঁশিয়ারি দিয়ে লামিয়া বাবার বাড়িতে চলে যান।
সোমবার পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে লামিয়াকে স্বামীর বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়। পরিবারের সদস্যরা চলে যাওয়ার পর লামিয়ার সঙ্গে রবিউলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে লামিয়াকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি ডোবার কাছে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান রবিউল। পরে লামিয়ার ছোট ভাই ওবায়দুল মাদবর তাকে ডোবায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা শাহিদা আক্তার বলেন, বিয়ের পর থেকেই রবিউল মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রতিবাদ করলেই তিনি লামিয়াকে মারধর করতেন, এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল। সোমবার মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।