বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের বাঘারপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে
পুলিশ। ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদন ও তদন্তে হত্যার আলামত পাওয়ার পর ঘটনার প্রায় তিন মাসের মাথায় নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যা করেন তিনি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন তিনি খলশী গ্রামের জাফর শিকদারের ছেলে। সোমবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, গত ৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার খলশী গ্রামের দক্ষিণপাড়ার একটি বাড়ি থেকে গৃহবধূ জুবাইদা খাতুন (৩২) ও তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জুবাইদার মরদেহে গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। একই কক্ষে ছেলে জিসানের মরদেহও পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির হাত-পা বিছানার ওপর তোয়ালে দিয়ে বাঁধা ছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার পর নিহত জুবাইদার ছোট ভাই জাহিদ হাসান ১০ আগস্ট রাতে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
মামলার পর পুলিশ পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, হত্যাকা-ের কয়েক দিন আগে থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাকির হোসেন প্রথমে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ সময় ছেলে জিসান ঘটনাটি দেখে ফেললে তাকেও হত্যা করেন তিনি। হত্যাকান্ডের পর জাকির হোসেন বহরামপুর বাজারে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলে যান।
বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় তিনি এক গৃহকর্মীকে মুঠোফোনে বাড়িতে পাঠান। গৃহকর্মী বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করে কাউকে
না পেয়ে ঘরের ভেতরে মরদেহ দুটি দেখতে পান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ কুমার ম-ল জানান, ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাকির
হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ হত্যাকান্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যাকারীকে সোমবার জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার জাকির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা ।