নিজস্ব প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সুন্দরবন থেকে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের সাথে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ পঞ্চম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশে করেছে। রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে ১০ টায় উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন হরিনগর বাজারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ওপর দিকে বেলা ১২ টায় বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে শ্যামনগর উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনকের হাতে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। এতে সুন্দরবন নির্ভর হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও স্থানীয় মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।
সমাবেশে, মুক্তিপনের আতঙ্ক বন্ধ করো, জেলেদের পরিবারের মুখে হাসি ফুটাও, ভয় নয়, নিরাপত্তা চাই, বনদস্যু মুক্ত সুন্দরবন চাই, সুন্দরবন আমাদের প্রাণ, রক্ষা করা সবার দায়িত্ব ও সম্মান, জেলে- বনজীবিদের কান্না নয়, নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা চাই, জীবন- জীবিকা রক্ষা করো, বনদস্যুদের প্রতিরোধ করো, সুন্দরবন বাঁচানোর শপথ নাও, দস্যুমুক্ত বন গড়ে যাও, জেলে-জীবনের নিরাপত্তা চাই, দস্যু মুক্ত সুন্দরবন চাইসহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বনদস্যু নির্মূল কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহবায়ক সালাউদ্দিন লিটন, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জি এম রস্তুম আলী, সাবেক ইউপি সদস্য মাস্টার আব্দুর রহিম, বিএনপি নেতা আমির হামজা আবু, ইউপি সদস্য জলিল গাজী, ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক সরদার, মাছিদুর রহমান বাবু, মিয়ারাজ হোসেন, জামাত নেতা আবুল হোসেন, বাবলুর রহমান, জেলেদের পক্ষে অমেদ আলী ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক কৃষপদ পরমাণ্য প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। বনদস্যুদের ভয়ে জেলে-বাওয়ালিরা নিরাপদে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারছে না। অনেকে মুক্তিপণ দিতে দিতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। আবার মুক্তিপণ দিতে দেরী হওয়ায় অনেককে হাত ও পা ভেঙে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। অপহরণ ও মুক্তিপণের আতঙ্কে তাঁদের পরিবারগুলো উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আরও বলেন, স্যালেন্ডারের নাটক বন্ধ করে প্রকাশ্যে দস্যুদের শাস্তি দিতে হবে। দরকার হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সকলে এক হয়ে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও যারা এলাকায় বসে ডাকাতদের সহযোগিতা করছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। এবং তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
বনবিভাগের উদ্দেশ্য বক্তারা বলেন, একদিক বনদস্যুদের মুক্তিপণ অপরদিকে পাস পারমিট থাকার পরও বন কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। আবার ড্রোন দিয়ে জেলে ধরছে, কিন্তু ডাকাতদের বেলার তাদের সেই ড্রোন কোথায় যায়। নিরীহ জেলেদের না ধরে, ডাকাত ধরে দেখানোর দাবি জানান।