নিজস্ব প্রতিনিধি। প্রেমিকা’র উপর অভিমানে তারই উপহার দেওয়া শার্ট, প্যান্ট পরে, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজ ঘরের দড়িতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে মুন্সিগঞ্জ জেলেখালি’র যুবক প্রদীপ কুমার দীপ (২৪)।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) ভোর ৫টায় নিজ ঘরের আঁড়ার সঙ্গে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন ।
প্রদীপ কুমার মুন্সীগঞ্জ জেলেখালী গ্রামের বাসুদেব মন্ডলের ছেলে এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিডিও ইয়ুথ টিম মুন্সীগঞ্জ শাখার সভাপতি এবং স্থানীয় জয়তী নাট্যশালা নামীয় সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে প্রদীপ কুমার লেখেন- আত্মহত্যা করার আগে প্রদীপ নিজের ফেসবুকে তার প্রেমিকার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে প্রেমিকা তাকে ঠকিয়ে অপর এক তরুণের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে বলেও প্রদীপ উল্লেখ করেন। প্রেমিকার দেয়া শার্ট, প্যান্ট ও জুতা পরেই সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি প্রদীপ তার ফেসবুকে লিখে গেছেন।
‘বিদায় পাখি
তুমি যে এই ভাবে আমার সাথে বেঈমানি করবে আমি কখনো বুঝিনি
আর কখনোই তোমাকে বিরক্ত করব না 
কিন্তু একটা কথা বলব পাখি আমাকে যে ভাবে ঠকালে এইভাবে অন্য কোনো মায়ের কোল খালি করো না প্লিজ 
আর কখনোই তোমার জন্য পাগলামি করবে কেউ
ভালো থেকো পাখি
আবার যে নতুন মানুষটার সাথে কথা বলছো তাকে যেনো কাঁদিও না
যেট আজ আমি নিজে চোখে দেখলাম কথা বলতে
আর তোমার দেওয়া জামা প্যান্ট জুতা সব সাথে নিয়ে মরলাম পাখি
আমি আমার কথা রেখেছি পাখি গত ২ বছর আগে বলেছিলাম না পাখি তুমি যেদিন আমাকে ভুলে যাবে সেই দিন ই আমার মরণ হবে রেখেছি পাখি আমার কথা আমি তোমার মত বেইমান না
আর আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র তুমি এবং তোমার পরিবার দায়ী’।
আত্মহত্যার আগে ফেসবুক পোস্টে প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিওকলের কিছু মুহূর্ত ও ছবি শেয়ার করেন প্রদীপ। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রেমিকা লক্ষী জানান, আমার কোন ছেলের সাথে সম্পর্ক নেই। তৃতীয় কোন পক্ষ প্রদীপকে ভুল বুঝিয়েছে আমার ব্যপারে।
প্রদীপের আত্মহত্যার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নিপা চক্রবর্তী বলেন, বংশীপুরের একটা মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল প্রদীপের। তার ওপরে অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে। প্রদীপের পিতা বাসুদেব মন্ডল জানান, ছেলের মৃত্যু নিয়ে কাউকে তারা অভিযুক্ত করতে চান না।ময়না তদন্ত ছাড়াই মৃতদেহ সৎকারের আবেদন করলেও পুলিশ মৃতদেহ নিয়ে গেছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ইউডি মামলা দায়েরের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ সাতক্ষীরা মর্গে পাঠানো হয়েছে।