যশোর প্রতিনিধি | যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের আলোচিত ‘হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর সব ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। বকেয়া বিল ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে পার্কের মূল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিলের পর গত মঙ্গলবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে রিসোর্টটিতে কর্মরত ৭০ জন কর্মী আকস্মিকভাবে চাকরি হারিয়েছেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন পরিচালক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলায় সাময়িকভাবে এই কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। খুব দ্রুতই টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠানের হাতে এর দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।
২০১৭ সালে এই আইটি পার্কটি উদ্বোধনের পর এটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিল ‘টেকসিটি বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে ২০২৩ সালে তারা ডরমিটরি ভবনটি বিধি বহির্ভূতভাবে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে সাব-লিজ দেয়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকার টেকসিটির সাথে চুক্তি বাতিল করে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির কাছে ২৬ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিলসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় উদ্যোক্তারাও আগের ব্যবস্থাপনায় অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হঠাৎ রিসোর্টটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সেখানে কর্মরত কর্মীরা। রিসোর্ট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান খান প্রপার্টিজের জনসংযোগ কর্মকর্তা শামসুজ্জামান বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনে এবং বিশাল বিনিয়োগ করে তারা এটি পরিচালনা করছিলেন। এই আকস্মিক বেকারত্ব কর্মীদের জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
তবে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুনুর রশীদ ভূঞা জানিয়েছেন, বর্তমানে সরাসরি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ডরমিটরি ভবনটি পরিচালিত হচ্ছে। নতুন প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য টেন্ডার মূল্যায়নের কাজ চলছে। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে শেষ করার জন্য কয়েক দিনের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ পেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ফিরে আসবে।