মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | অনলাইন সাংবাদিকতার প্রসার যত বাড়ছে, ততই ছায়ার মতো বেড়ে উঠছে একশ্রেণির অনিবন্ধিত, নামসর্বস্ব পত্রিকা। বাহ্যিক ঝকঝকে ওয়েবসাইট, চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন আর বড় বড় আশ্বাস—সব মিলিয়ে তারা তৈরি করছে বিশ্বাসের এক মায়াজাল। কিন্তু সেই মায়ার আড়ালে লুকিয়ে আছে সংগঠিত প্রতারণার এক নীরব কারখানা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নতুন নতুন নাম ব্যবহার করে এসব অনিবন্ধিত অনলাইন পত্রিকা খুলে বসছে অসাধু চক্র। নেই কোনো সরকারি নিবন্ধন, নেই স্থায়ী কার্যালয়, নেই প্রকৃত জনবল। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা স্টাফ রিপোর্টার, জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগের ঘোষণা দেয়। চাকরি নয়, বরং নিয়োগের নামে শুরু হয় অর্থ আদায়ের উৎসব।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, কেউ কেউ প্রেস কার্ড, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, আইডি কার্ড, ক্যামেরা বা অন্যান্য ‘সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম’-এর কথা বলে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা, কোথাও আবার লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। বিজ্ঞাপনে আকর্ষণীয় সম্মানীর কথা দেখে অনেক তরুণ আশায় বুক বাঁধে। কিন্তু টাকা দেওয়ার পর শুরু হয় দীর্ঘ প্রতীক্ষা—মাসের পর মাস কেটে যায়, আসে না প্রেস কার্ড, আসে না কোনো সরঞ্জাম, আসে না সেই প্রতিশ্রুত সম্মানী।
যোগাযোগ করতে গেলে কখনো ফোন বন্ধ, কখনো ফেসবুক আইডি উধাও, আবার কখনো নতুন অজুহাত। এভাবেই একের পর এক মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে, ভাঙছে স্বপ্ন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকতার সম্মান।
এই তথাকথিত প্রকাশক ও সম্পাদকরা আদতে কোনো সংবাদকর্মী নন—তারা কাগজের নাম ব্যবহার করা প্রতারক ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই করছে না, বরং গোটা সাংবাদিকতা পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি এখন একটাই—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অনলাইন অনিবন্ধিত পত্রিকাগুলোর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। প্রয়োজন দ্রুত তদন্ত, প্রয়োজন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। না হলে প্রতারণার এই অদৃশ্য চক্র আরও বিস্তৃত হবে, আর প্রতিদিনই কেউ না কেউ বিশ্বাসের দামে প্রতারিত হবে।