বাংলাদেশের ফেনীতে প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ঘর ভাঙার উপক্রম হয়েছে এক গৃহবধূর। স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ায় বিবি জহুরা নামের ওই নারীকে তাঁর স্বামী মৌখিকভাবে ‘তালাক’ দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
অভিযুক্ত স্বামী ইসমাইল হোসেন কাওসার স্থানীয় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন নেতা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয়দের তোপের মুখে পালিয়ে যান তিনি।
বিবি জহুরা এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন। তাঁর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথমবার ভোট দেওয়া নিয়ে তিনি বেশ উৎসাহিত ছিলেন। তবে তাঁর স্বামী কাওসার তাঁকে কেন্দ্রে যেতে কড়া নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট দেন জহুরা।
ফিরে এসে স্বাভাবিকভাবে গৃহস্থালি কাজ শেষ করলেও বিকেলে কাওসার লোকমুখে জানতে পারেন যে তাঁর স্ত্রী ভোট দিয়েছেন। জহুরা ভোট দেওয়ার কথা স্বীকার করলে কাওসার ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় সবার সামনেই তাঁকে মৌখিকভাবে তালাক দেন এবং জহুরাকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেন।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার এই কর্মকাণ্ডে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। জহুরা ও তাঁর সন্তানদের প্রতি অবিচারের অভিযোগে স্থানীয়রা কাওসারকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উত্তেজনা বাড়লে কাওসার নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং তালাক ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৌশলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
কাওসার ওই এলাকার মৃত ইউসূফ হাজারীর ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।
২০১৩ সালে জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাঁদের ১২, ৮ এবং ৪ বছর বয়সী তিনটি সন্তান রয়েছে। গ্রামবাসী নুরুল আফছার জানান, কাওসারের নির্যাতনের বিষয়টি পুরোনো এবং এ নিয়ে আগেও একাধিকবার সামাজিক বিচার-সালিশ হয়েছে।
ভোট দেওয়া নাগরিক অধিকার হলেও ফেনীর এই ঘটনা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।